shono
Advertisement
Jangipur

এতদিন টাকা ঢুকত তৃণমূল নেতাদের পকেটে! গঙ্গা ভাঙনে বাজেট বরাদ্দে খুশি জঙ্গিপুর

জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকায় ভয়াবহ গঙ্গা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে।
Published By: Jaba SenPosted: 10:12 PM Jun 22, 2026Updated: 10:12 PM Jun 22, 2026

গঙ্গা ভাঙন রোধে বড় সুখবর। রাজ্য বাজেটে জঙ্গিপুর মহকুমায় গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আজকের বাজেটে জঙ্গিপুরকে আলাদা জেলা করার প্রস্তাব ঘোষণা হয়েছে। এর ফলে ২১ লক্ষ মানুষের ১০ বছরের দাবি অবশেষে পূরণ হল।

Advertisement

সোমবার বাজেটে ঘোষণা করা হয়, জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকায় ভয়াবহ গঙ্গা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। ৫০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্র এবং বাকি অর্থ রাজ্য দেবে। আপাতত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, পরে বরাদ্দ আরও বাড়বে। তৃণমূল সরকার মুর্শিদাবাদে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কয়েকশো কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও সেই টাকার বেশিরভাগ অংশই নেতা-নেত্রীদের পকেটে গিয়েছে বলে অভিযোগ। তার জেরে সামশেরগঞ্জের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বর্ষাকাল চলে আসায় সামশেরগঞ্জে নতুন করে গঙ্গা নদীর ভাঙন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তারই মধ্যে রাজ্য সরকার ভাঙন প্রতিরোধে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করায় কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সামশেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক নুর আলম বলেন,"সম্প্রতি মালদহ জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে আমি মুর্শিদাবাদের নদী ভাঙনের সমস্যা তাঁকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। এখানে নদী ভাঙন সমস্যা এতটাই বড় যে এর মোকাবেলা করতে হলে কেন্দ্রীয় সেচ মন্ত্রকের সাহায্য দরকার। কেবলমাত্র বালির বস্তা ফেলে সামশেরগঞ্জের গঙ্গা নদীর ভাঙন আটকানো সম্ভব নয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে। আমরা আশা করব কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাজ্য সরকার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গা নদীর ভাঙন ঠেকানোর জন্য স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সামশেরগঞ্জের কয়েকটি জায়গায় জাতীয় সড়ক থেকে গঙ্গা নদীর দূরত্ব এখন দেড় কিলোমিটারের কম হয়ে গিয়েছে। যে হারে গঙ্গা নদীর ভাঙন চলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জাতীয় সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তবে রাজ্য সরকার উদ্যোগে নিয়ে ভাঙন প্রতিরোধে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করায় আমরা খুশি।"

এছাড়াও জঙ্গিপুরকে পৃথক জেলা তৈরির প্রস্তাব ঘোষণার জন্য বিজেপি সরকারকে সাধুবাদ জানান তৃণমূল বিধায়ক। তিনি বলেন,"জঙ্গিপুরের বহু মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল 'জঙ্গিপুর জেলা'। ফরাক্কার মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য এখনও প্রায় ১০৫ কিমি পথ অতিক্রম করে বহরমপুর যেতে হয়। কিন্তু নতুন জেলা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক কাজ জঙ্গিপুর থেকেই করতে পারবেন।"

উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা সংগ্রাম সমিতি'র সভাপতি হাসানুজ্জামান বাপ্পা বলেন,"২০১৭ সাল থেকে আমরা মুর্শিদাবাদ জেলা ভাগের জন্য আন্দোলন করছি। ফরাক্কা থেকে শুরু করে সাগরদিঘি হয়ে নবগ্রাম, লালগোলা পর্যন্ত ব্লকগুলিকে নিয়ে নতুন জঙ্গিপুর জেলা তৈরি হওয়া দরকার ছিল। আমরা খুশি বিজেপি রাজ্য সরকারের ক্ষমতায় এসে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়েছে। জঙ্গিপুর নতুন জেলা হাওয়ায় এখানে জেলা হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ তৈরি হবে। জঙ্গিপুর শহরের নতুন প্রশাসনিক ভবন তৈরি হওয়ায় সেখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানও হবে।"

জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, "আমার সরকারের কাছে একাধিক দাবি ছিল। তার মধ্যে আপাতত তিনটে দাবি এই বাজেটে পূরণ হয়েছে। রঘুনাথগঞ্জ শহরে মেয়েদের জন্য গার্লস কলেজ তৈরির দাবি সরকার মেনে নিয়েছে এই বাজেটে। জঙ্গিপুরে গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধের রাজ্য সরকার আপাতত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে ,পরে আরও টাকা বরাদ্দ হবে। গঙ্গা নদীর ভাঙনে জঙ্গিপুর শহরের কয়টি জায়গায় নদীর দুই পাড়ের বেশ কিছুটা অংশ নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছিল।"

জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান জানান, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বাজেটের আগে জঙ্গিপুরের উন্নয়নের জন্য বারো দফা দাবি পূরণের আবেদন জানিয়েছিলাম। তার মধ্যে গঙ্গা ভাঙন রোধ, প্রশাসনিক কাজে জেলা ভাগ, গার্লস কলেজ নির্মাণ ও তারাপুর কেন্দ্রীয় বিড়ি শ্রমিকদের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য হাসপাতালের আধুনিককরণ বাস্তবায়িত করা হয়েছে বাজেটে। মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়ে সেই কথা রাখায় আমি খুব খুশি।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement