ভোট মিটতেই কোচবিহার জেলাজুড়ে যেন রান্নার কালোবাজারির রমরমা দেখা যাচ্ছে। নিয়মমতো শহরাঞ্চলে ২৫ দিন পর গ্যাসের বুকিং দিচ্ছে সংস্থা। তবে তারপরেও গ্যাস পেতে অন্তত আরও ১৫ দিন সময় লেগে যাচ্ছে! অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে কাজে লাগিয়ে একাংশ কর্মীকে হাত করে দেদার কালোবাজারি চলছে গ্যাস সিলিন্ডারের। খুচরো গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে যেখানে ১৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের সিলিন্ডার যেটা ৯৬৬ টাকার পাওয়ার কথা সেটা ২,৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই ভোগান্তি কমাতে গ্যাসের দোকানগুলিতে সকাল থেকে লম্বা লাইন থাকছে গ্রাহকদের তবে হাতেগোনা সামান্য কিছু গ্রাহকদেরই গ্যাস সিলিন্ডারের কুপন দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত ঘটনা প্রশাসনের নাকের ডগায় হলেও কেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ চরমে উঠচে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিন্তু এখনও এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না।
জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুরজকুমার ঘোষ বলেন, গ্যাসের সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও কয়েকটি সমস্যা হচ্ছে। খাবারের দোকানে গ্যাস পর্যাপ্ত না পাওয়া যাওয়ায় পদ ঘুমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের রোজগার কমেছে অপরদিকে কারিগর কাজ হারাচ্ছেন তাতে কর্মসংস্থানও কমছে। নির্বাচনের পর সমস্যা কিছুটা কমবে বলে আশা ছিল তবে এখনও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি।
বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জেলা ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে কয়েকদিন কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে পরিষেবা থাকলেও ফের সমস্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বেশ কিছু স্থান থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি খবরও আসছে। তবে এগুলো যাতে না হয়, তারজন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যদিও শুধুমাত্র ব্যবসায়ীরাই যে সমস্যার মুখে পড়েছেন তা নয়, ২৫ দিন পর গ্যাস বুকিং নেওয়ার পরেও কেন ১৫ দিন বেশি সময় নেওয়া হচ্ছে, সেটা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। শহরের রান্নার গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা একটি সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়ম মেনেই তারা গ্যাস সরবরাহ করছে। কোথাও কোনও অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
