রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের (WB Assembly Election 2026) শুরুতেই ইভিএম বিভ্রাট দেখা গেল বহু জায়গায়। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়ার একাধিক জায়গায় ইভিএম বিভ্রাট দেখা যায়। সময় গড়িয়ে গেলেও বহু জায়গায় ভোটগ্রহণ শুরু করতে দেরি হয়েছে। কোথাও আবার ভোটগ্রহণের সময়ে ইভিএম বিভ্রাট দেখা যায়। ভোটের লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার ফলে ক্ষোভ ছড়ায় সাধারণ ভোটারদের। বহু জায়গায় ভোটারদের সঙ্গে ভোটকর্মীদের সঙ্গে বচসার খবর মিলেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরেও এসেছে।
আজ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ (WB Assembly Election 2026) শুরু হয়েছে। এদিন সকাল সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় প্রতি বুথে। ভোট দেওয়ার জন্য ভোটাররা আগে থেকেই লাইন দিয়েছিলেন। সকাল সাতটায় ভোট শুরু হলে বহু জায়গায় দেখা যায় বিভ্রাট। কোথাও ইভিএম মেশিনে গোলোযোগ ধরা পড়ে। কোথাও ভিভিপ্যাড মেশিনে সমস্যা দেখা যায়। ফলে নিদিষ্ট সময় ভোট শুরু করা সম্ভব হয়নি। কোথাও ১৫ মিনিট, কোথাও ২০-২৫ মিনিট, আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে শুরুই করা যায়নি ভোটগ্রহণ।
নদিয়ার রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের আড়ংঘাটার খোষলপুর অঞ্চল ১২১ এবং ১২২ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। ফলে ভোটাররা লাইন দিয়ে আছে দীর্ঘক্ষণ। নবদ্বীপ বিধানসভার একাধিক জায়গায় ইভিএম সমস্যা থাকায় ভোটগ্রহণ দেরিতে শুরু হয়েছে। নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, "আমি নিজেও সকালে ভোট দিতে পারিনি।" উলুবেড়িয়ার একাধিক বুথে ইভিএম মেশিন খারাপের খবর আসে। ফলে দীর্ঘসময় ভোটগ্রহণ শুরু করা যায়নি। মন্তেশ্বর বিধানসভার রাইগ্রামে ১১৭ ও ১১৮নং বুথে ভিভি প্যাডে ছবি উঠছে না অভিযোগ আসে। ঘটনার খবর পেয়ে সিপিএমের ইলেকশন এজেন্ট ওই দুই বুথে ঢুকতে গেলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। অতিসক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়।
কাটোয়ার রবীন্দ্র ভবনে ৯৫ নম্বর বুথে সকালে ইভিএম মেশিন খারাপ থাকে বলে অভিযোগ। সেখানে ভোট এক ঘন্টার উপর বন্ধ ছিল। মেশিন পরিবর্তন করে ভোট শুরু হয়। ভোটাররা দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করেছেন। কাটোয়া মহকুমা শাসক বলেন, "কেন্দ্রীয় বাহিনীর অফিসাররা কথা শুনছে না।"
এদিকে আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের ঘরদুগরা মনিমোহন প্রাইমারি বিদ্যালয়ের একটি বুথের ইভিএম পুরোপুরি খারাপ হয়ে যায়। ০৭ নম্বর বুথে সকাল থেকে চারবার ইডিএম মেশিন খারাপ হয়ে যায়। এদিন বেলা এগারোটার পর পুরোপুরি খারাপ হয়ে যায়। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৯৯৪। ৩৩৪ ভোট পুলের পর মেশিন পুরোপুরি খারাপ হয়ে যায়। ফলে নতুন মেশিনে ফের ভোটগ্রহণ হয়। ওই ভোটগুলির কী হবে? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
