অমিতলাল সিং দেও, মানবাজার: প্রেমিকের সঙ্গে বাইকে চেপে ঘোরার নেশা। কিন্তু প্রেমিকার শখ পূরণের সাধ্য ছিল না পেশায় হাঁস বিক্রেতা প্রেমিকের। অগত্যা প্রেমিকার সাধ মেটাতে ভিডিও দেখে লুটপাট শিখল প্রেমিক। তারপর গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে ছিনতাই করল যুগল। চাঞ্চল্য়কর এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ায়।
পুরুলিয়ার টামনা থানা এলাকায় ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কে ২০২৫ সালের ২ অক্টোবরের রাতে এক যুবকের গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তদন্তে নামে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে পুরুলিয়া মফস্বল থানার খোঁজদা গ্রামের বাসিন্দা নির্মল গরাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয় ছিনতাই হওয়া মোটর বাইকটি। অভিযুক্তর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদা থানা এলাকার বানেশ্বরপুরের আউলডাঙ্গার বাসিন্দা বছর কুড়ির তিথি বিশ্বাস পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই তরুণী রানাঘাট পুলিশ জেলার ধানতলা এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। বুধবার তাকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে তার ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়।
এই দু'জনকে জেরা করেই মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মোবাইল গেমের মাধ্যমে ২০২৩ সালে তিথির সাথে নির্মলের আলাপ হয়। পরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ২ অক্টোবর ভোরে ট্রেনে করে পুরুলিয়া আসেন তিথি। সেখানে নির্মলের সঙ্গে দেখা হয়। পুরুলিয়া স্টেশনেই ওইদিন সকাল পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। এরপর ওই তরুণী ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেন। তবে তার জন্য টাকা ও মোটর বাইক প্রয়োজন ছিল তাদের। এরপরেই ওই তরুণী মোবাইল ফোনে একাধিক মোটর বাইক লুটের ভিডিও দেখেন। সেখান থেকেই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তাঁরা।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। বাজার থেকে ছুরি কিনে লুটের ছক কষেন তিথি এবং নির্মল। প্ল্যানমাফিক সন্ধেবেলায় নবনির্মিত ১৮ নম্বর জাতীয় সড়কে ফাঁকা এলাকায় দাঁড়িয়ে একাধিক বাইকে তিথি লিফট চেয়ে হাত দেখান। কিন্তু তাতে কেউ সাড়া দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বাইক থামান তোতন সর্দার নামে এক ব্যক্তি। তিথিকে অসহায় মনে করে লিফট দিতে যেতেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পিছন থেকে এসে বাইক চালকের গলায় ধারালো ছুরির কোপ মারে নির্মল। মোটর বাইক,ব্যাগ ও মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যায় যুগল।
তোতনের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। জেরায় জানা গিয়েছে, ছিনতাই করা ওই বাইকের নম্বর প্লেট পাল্টে দু'দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় যুগল। তারপর বাড়ি ফেরেন তিথি। স্রেফ ঘোরার নেশায় এমন অপরাধের ভাবনা দেখে হতবাক পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তদন্তকারীরা। এই যুগল অন্যত্র এই ধরনের অপরাধ করেছে কি না তা জানতে বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠিয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।
