shono
Advertisement
Nadia

সোশাল মিডিয়া থেকে ছাদনাতলায়, গাটছড়া বাঁধলেন মূক-বধির যুগল

সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, প্রেমপর্ব পেরিয়ে শেষমেশ মধুরেণ সমাপয়েৎ।
Published By: Arpita MondalPosted: 02:24 PM Jun 19, 2026Updated: 03:30 PM Jun 19, 2026

ওঁদের ভাষা নেই, কিন্তু অনুভূতি আছে। শ্রবণশক্তি নেই, আছে বোধ। কিন্তু, প্রেম তো কখনও স্থান-কাল-পাত্র বিচার করে আসে না। যেমনটা আসেনি নদিয়ার মাজদিয়া পূর্ণগঞ্জের বাসিন্দা কৌশিক মিত্র এবং বগুলার বাসিন্দা স্নেহা পোদ্দারের ক্ষেত্রে। দুজনই মুক ও বধির। কিন্তু, তাতে গোপন থাকেনি হৃদয়ের গোপন কথাটি। সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, প্রেমপর্ব পেরিয়ে শেষমেশ মধুরেণ সমাপয়েৎ। দুই পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন কৌশিক-স্নেহা।

Advertisement

সোশাল মিডিয়ায় আলাপের পর কৌশিক, স্নেহার পরিচয় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফুটবল খেলতে যাওয়ার সুবাদেও দু'জনের প্রায়ই দেখা হত প্র্যাকটিস মাঠে। সেই সময় সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে দুজন গোপনে বিয়ের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবারের সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে বিয়েতে সম্মতি দেন। অবশেষে মাজদিয়ায় কৌশিকদের বাড়িতেই পুরোহিত ডেকে শাস্ত্র মতে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনে চার হাত এক করে দেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

মাজদিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর আইটিআই থেকে ফিটার ট্রেডে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন কৌশিক। তবে এখনও কোনও চাকরি পাননি, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং মা গৃহবধূ। অন্যদিকে নববধূ স্নেহা পোদ্দার বর্তমানে বিএ পাঠরতা। তাঁর বাবা একজন ছোট ব্যবসায়ী এবং মা গৃহবধূ। আবেগপ্রবণ হয়ে কৌশিকের বাবা বলেন, "আমাদের সব চেয়ে বড় চিন্তা ছেলের একটা স্থায়ী চাকরি। আমরা আজ বেঁচে আছি, তাই ওদের পাশে আছি। কিন্তু আমরা না থাকলে কৌশিক ও তার স্ত্রী কীভাবে সংসার চালাবে, সেটাই বড় দুশ্চিন্তা। সরকারের কাছে আবেদন, মূক ও বধির এই শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের বিষয়টি যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হয়।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement