এসআইআর (SIR in West Bengal) তালিকায় বহু মতুয়ার নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা। আর তা নিয়ে চলছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। তার ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়াগড়ে বিজেপি বিপাকে পড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই পরিস্থিতিতে 'ড্য়ামেজ কন্ট্রোলে' মোদি। মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে কাউকে ভয় না পাওয়ার অভয়বাণী দিলেন তিনি।
মোদি এদিন বলেন, "যাদের টাকার অভাব নেই, তারাও বের করে দিচ্ছে। বের করে দিতে হবে। তৃণমূল এদের সাহায্য করছে। এরা কি আপনার ক্ষতি করছে না? বিজেপি এলে তাড়াবে। বড় অ্যাকশন নেবে। বাংলায় এটা বড় সমস্যা। মন দিয়ে শুনুন, মোদির (Narendra Modi) গ্যারান্টি - মতুয়াদের (Matua) নাম বাদ গিয়েছে, পড়শি দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতিতা হয়ে এসেছেন, ভয় নেই। ভারতে তাঁদের থাকার অধিকার আছে। বাংলায় পরিবর্তন আসবেই। বিজেপির দায়িত্ব এটা।"
মন দিয়ে শুনুন, মোদির গ্যারান্টি - মতুয়াদের নাম বাদ গিয়েছে, পড়শি দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতিতা হয়ে এসেছেন, ভয় নেই। ভারতে তাঁদের থাকার অধিকার আছে।
উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। এছাড়াও রাজ্যের আরও অন্যান্য জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছেন মতুয়ারা। বনগাঁ, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে বড় অংশের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার রয়েছে। মতুয়াদের আশঙ্কা, এসআইআরের ফলে অনেকেরই নাগরিকত্ব নিয়ে দোলাচল দেখা দিতে পারে। কারণ, ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও মতুয়া, নমঃশূদ্রদের অনেকেই এখনও নাগরিকত্ব পাননি। আর সে কারণে তাঁরা যথেষ্ট উদ্বেগে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতাদের একাংশের মুখে বারবার বাংলাদেশে 'পুশব্যাকে'র কথা শোনা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যার ফলে বিজেপির উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন মতুয়ারা। আর সে কারণেই সম্ভবত চাপে রয়েছে গেরুয়া শিবির। তাই মতুয়াগড়ে ভোটবাক্স দুর্বল হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা মোটেও ভালো ইঙ্গিত নয় বলেই খবর। সে কারণেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বারবার মতুয়া উদ্বাস্তুদের সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেন। সেই একই আশ্বাসের সুর শোনা গেল মোদির গলাতেও।
