উত্তপ্ত বেলডাঙায় (Beldanga Unrest) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় পুলিশ। বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের হটাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের সরাতে লাঠিও চার্জ করা হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর বিক্ষোভকারীদের তরফে ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এদিনও রেললাইন অবরোধ করে রাখায় লালগোলা শাখায় ট্রেম চলাচল করছে না বলে খবর। ওই অবরোধকারীদের সরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই ২২ জনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।
ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই গতকাল, শুক্রবার জ্বলে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga Unrest)। স্থানীয় স্টেশনে আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। তার ফলে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় কলকাতা-উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচলে সমস্যা হয়। প্রায় ঘণ্টাসাতেক পর অর্থসাহায্য এবং চাকরির প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। আজ, শনিবার ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের। ভাঙল লেভেল ক্রসিং। তার ফলে জাতীয় সড়কে তীব্র যানজট। চরম ভোগান্তির শিকার যাতায়াতকারীরা। অবরোধকারীদের দাবি, শুক্রবার বিহারের ছাপরা এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক আনিসুর শেখকে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা করা হয়। বেধড়ক মারধরে তাঁর বুকের হাড় ভেঙে যায়। সেই খবর গ্রামে আসতেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। আহত পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরলে আ্যম্বুল্যান্স করে তাঁকেও অবরোধস্থলে আনা হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে ক্রমে বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। ফের রাস্তা, রেলপথ অবরুদ্ধ হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কের জেরে এলাকার দোকানপাট, হাটবাজার বন্ধ হয়ে যায়। বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তারা। লেভেল ক্রসিং ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভের মাঝে আটকে পড়ে অ্যাম্বুল্যান্সও। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। অনেকেরই অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও আন্দোলন সামাল দিতে তারা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। খবর গিয়েছিল, কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছে আরপিএফ, আরপিএসএফ। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে জেলা পুলিশ সুপারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরপরই এদিন বেলায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছয়।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, লাঠি ট্রিটমেন্টের দরকার। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন। বেলডাঙা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এখন তো কখনও কখনও মনে হয়, এই বাংলা ভারতের অন্য অংশ। এই বাংলা কি ভারতের বাইরে? বাংলা ভারতের অংশ নয় কি?" তাঁর প্রশ্ন, "বেলডাঙা কিংবা বাংলা কি ভারতের বাইরে?"
এই অবস্থায় পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে বিশাল পুলিশ বেলডাঙায় নেমেছে। বিক্ষোভকারীদের সরাতে লাঠিচার্জও হয় একাধিক জায়গায়। জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধমুক্ত করতে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করা হয়! পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছচ্ছে বলে খবর।
