শুক্রবারের পর আজ শনিবারও নতুন করে অশান্ত বেলডাঙা (Beldanga Issue)। আর এহেন পরিস্থিতির জন্য বিজেপিকেই দুষলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুধু তাই নয়, নাম না করে হুমায়ুন কবীরকেও আক্রমণ শানালেন তিনি। অভিষেক বলেন, ''সভায় আসার আগে বেলডাঙায় অশান্তির খবর পাই। দলের তরফে অনেকেই সভা না করার কথা বলেছিল। খোঁজ নিয়ে দেখলাম এই যে ঘটনাটি ঘটছে এর ইন্ধন দিচ্ছে বিজেপির বাবুরা। এই মাটিতে আরেকজন গদ্দার তৈরি হচ্ছে সে (পড়ুন হুমায়ুন)।'' তাঁর কথায়, ''বহরমপুরে সভা করতে না আসলে গদ্দারদের অক্সিজেন দেওয়া হত।''
ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই গতকাল, শুক্রবার জ্বলে ওঠে বেলডাঙা। স্থানীয় স্টেশনে আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। এমনকী ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে রাস্তা অবরোধও। চূড়ান্ত ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। শুক্রবারের পর আজ শনিবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। শুরু হয় রেল এবং রাস্তা অবরোধ। ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এই আবহেই আজ শনিবার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিমি দূর বহরমপুরে রোড শো করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে সেই সভায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের পৌঁছানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। আর তাই দলের তরফে অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজকের সভা না করার জন্য আবেদন করেন। যদিও তা উপেক্ষা করে বহরমপুরে প্রথমে রোড শো করেন এবং পরে সেখান থেকেই বেলডাঙা নিয়ে মুখ খোলেন অভিষেক।
সবাইকে শান্ত থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ''কারও কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। কালকেও এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপর আক্রমণ হয়েছে। আজও হয়েছে। দলীয়ভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন করব এই ঘটনায় ব্যবস্থা নিন। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে সমর্থন করে না।'' তবে সবাইকে সংযত থাকতে বলে বার্তা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। তাঁর কথায়, ''কেউ একটা উসকে দিল আর আইন হাতে তুলে নিলে বিজেপিরই সুবিধা হবে।'' এই ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে একযোগে নাম না করে অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, ''একটা গদ্দারকে, মিরজাফর, বিজেপির ডামি ক্যান্ডিডেটকে বিদায় দিয়েছেন। আরেকটা গজিয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষকে মানুষের বিরুদ্ধে যারা লেলিয়ে দেয়, তাদের এক হতে হবে।'' পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপি যোগ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''বাবরি নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, ২০১৯ সালে সেই বিজেপির প্রার্থী ছিল। তাহলে বিজেপির সঙ্গে কার যোগাযোগ?'' তবে খুব শীঘ্রই তাঁর স্বরূপ সামনে আসবে বলেও তোপ সাংসদের।
