বাবুল হক, মালদহ: কালিয়াচকে পাঁপড় বিক্রেতাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার কুখ্যাত দুষ্কৃতী তথা মাদক কারবারি। ধৃতের নাম সাজিদ সর্দার। বাড়ি কালিয়াচক থানার গয়েশবাড়ি এলাকায়। ধৃত আরও দুটি খুনে অভিযুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতি রাতে পুলিশ মাদক মামলায় প্রথমে সাজিদ সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই পাঁপড়বিক্রেতাকে খুনের ঘটনায় যোগসাজসের কথা সামনে আসে। এরপর ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের মামলাও রুজু করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ নভেম্বর রাত ন'টা নাগাদ কালিয়াচক থানার জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লতিফপুর লাগোয়া নিচেরকান্দি এলাকায় এক পাঁপড় বিক্রেতা আজহার মোমিনকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। টাকাপয়সা লুট করে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। ওই রাতে যদুপুরের দিক থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সাইকেল নিয়ে ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় জাতীয় সড়কের ধারে কিছু দুষ্কৃতী দাঁড়িয়েছিল। তারাই তাঁকে গুলি করে বলে অভিযোগ। তাঁর মাথায় তিন-তিনটি গুলি লাগে। কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। সেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। শেষপর্যন্ত দেড় মাস পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হল।
শনিবার মালদহের জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ধৃত সাজিদ সর্দারের বাড়ি কালিয়াচক থানার গয়েশবাড়ি এলাকায়। সে আরও দু'টি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ মাদক ব্রাউন সুগার কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। গয়েশবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এই সাজিদ সর্দার এবং তার এক সহযোগী সরিফুলকে ব্রাউন সুগারের কারবার চালানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার জানান, তারপরেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পাঁপড় বিক্রেতা খুনের ঘটনায় জড়িত রয়েছে সাজিদ সর্দার। এরপর তাকে খুনের মামলায় 'ট্যাগ' করা হয়। খুনের ঘটনায় জড়িত আরও দু'জনের নাম উঠে এসেছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।
