নাবালক ছাত্রদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। সেই ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম কিংশুক মুখোপাধ্যায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার মূল অভিযুক্ত এই কিংশুকই। তিনিই দুর্গাপুরের (Durgapur) বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন নাবালক ছাত্রকে রক্তদান করিয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এর বিনিময়ে টাকার দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,"পুলিশের তদন্ত এগোচ্ছে। রং না দেখে পুলিশ তদন্ত করছে। এই গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি হবেই।''
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই এই ঘটনাকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের তদন্তে প্রথমে উঠে আসে ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র দেবপ্রিয় চক্রবর্তীর নাম। অভিযোগ, দেবপ্রিয়ই বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নাবালক ছাত্রদের হাসপাতালে নিয়ে যেত। জিজ্ঞাসাবাদে দেবপ্রিয় পুলিশের কাছে দাবি করেন, তাঁকে এই কাজে নামানো হয়েছিল অন্যদের মাধ্যমে। তদন্তে এরপর সামনে আসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিত প্রসাদ যাদবের নাম। একইসঙ্গে এই ঘটনায় মালদহের বাসিন্দা মহম্মদ হাবিবুল্লাহর যোগসূত্রের কথাও উঠে আসে। হাবিবুল্লা বিধান নগরের একটি হোটেলে কাজ করতেন। তবে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কিংশুক মুখোপাধ্যায়ের নাম।
পুলিশ সূত্রের দাবি, নাবালকদের রক্তদানের এই গোটা ব্যবস্থার পিছনে কিংশুকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে কীভাবে নাবালকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদানের জন্য রাজি করানো থেকে যাবতীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে কিংশুক ছিল বলে দাবি। তবে কয়েকজন ছাত্রকে দিয়ে রক্তদান করানোই উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছিল, সেই প্রশ্নও এখন তদন্তকারীদের সামনে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দেবপ্রিয় চক্রবর্তী, মহম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং অমিত প্রসাদ যাদবকে গ্রেপ্তার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা কিংশুকের নাম এবং ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এরপরই দুর্গাপুরের আড়ার হোটেল ম্যানেজমেন্ট কলেজের পড়ুয়া কিংশুকের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার বাড়ি দুর্গাপুরের বিধাননগরে হলেও এই ঘটনার পর থেকে সে ওড়িশায় ঢাকা দিয়েছে। এরপরেই প্রতিবেশী সেই রাজ্যে অভিযান চালিয়ে কিংশুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধৃত কিংশুকের সঙ্গে কার কার যোগাযোগ ছিল, নাবালক ছাত্রদের রক্তদানের জন্য কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছিল, এর বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে চলত এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,"পুলিশের তদন্ত এগোচ্ছে। রং না দেখে পুলিশ তদন্ত করছে। এই গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি হবেই।''
