সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: শিল্পা আগরওয়াল খুনে অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীব কুমারকে নিয়ে শনিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ৷ দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি এলাকায় যে ফ্ল্যাটে খুন করা হয়েছিল শিল্পাকে সেখানেই পুনর্নির্মাণ করা হয়৷ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। ভিড়িঙ্গির ফ্ল্যাটে দু’টি ঘরে কোথায়, কীভাবে শিল্পাকে খুন করা হয় তা পুলিশকে দেখায় রাজীব। এরপর বেনাচিতি বাজারে রাজীবকে নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে কোন দোকান থেকে ট্রলি ব্যাগটি কেনে তাও দেখায় রাজীব।
[ভাড়াবাড়িতে শিল্পাকে নিয়ে ফুর্তির আসরে ম্যানেজার, মিলল নাইটি-নিরোধ]
উল্লেখ্য, ট্রলি ব্যাগটি কেনার সময় রসিদে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর ভাড়িয়েছিল রাজীব। রসিদে তার নাম রয়েছে রাজেশ কুমার। যে মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ রয়েছে সেটিও পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের বাসিন্দা উত্তম নামে এক ব্যক্তির। যদিও উত্তম রাজীবের পরিচিত নয় বলেই জানতে পেরেছে পুলিশ। এ থেকে পুলিশের নিশ্চিত ধারনা, পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই শিল্পাকে খুন করেছে রাজীব। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর লাগাতার চাপের কাছে পুলিশকে শিল্পা আত্মহত্যা করেছে বলে ফোন করলেও আদতে বুধবারই মৃতদেহ পাচারের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রাজীব কুমারের৷ কিন্তু রাজীব কিংবা ওনার স্ত্রী কেউই গাড়ি চালাতে পারে না বলেই লাশ পাচারে সমস্যা দেখা দিয়েছিল৷ যেহেতু পচাগলা দেহ থেকে ইতিমধ্যেই প্রবল দুর্গন্ধ ছড়াতে আরম্ভ করেছিল তাই শিল্পার দেহ গায়েব নিয়ে প্রবল দোটনায় পরেন দু’জন৷ তাই ট্রলি ব্যাগে ভরে আশেপাশেই কোথাও শিল্পার দেহ ফেলে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল রাজীববাবুর বলে পুলিশের অনুমান৷ এছাড়াও শিল্পার যে মোবাইল ফোন রানিগঞ্জের গির্জাপাড়ার রাজীবাবুর ভাড়ায় নেওয়া ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই মোবাইল এখন ঘেঁটে দেখছে পুলিশ৷ কল লিস্টে শুধু ‘জানু’ মানে রাজীববাবুর নাম৷ সারা দিনে শিল্পা রাজীবকেই প্রায় ঘণ্টা পাঁচেকের বেশি ফোন করত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷ এছাড়াও শিল্পার হোয়াটসঅ্যাপ দেখে পুলিশের চক্ষু চড়ক গাছ৷ সারাদিনে শুধু রাজীবের সঙ্গে চ্যাটিংই নয় নিজের ও অন্যান্য দেশি-বিদেশি মহিলার নগ্ন ছবিও ধারাবাহিকভাবে রাজীবকে পাঠাত শিল্পা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷
[ট্রলিব্যাগে যুবতীর দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ]
শুধু কন্ডোমই নয়, জন্ম নিরোধক ও যৌন উত্তেজক ওষুধও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে রাজীবের রানিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে৷ ফোন, হোয়াটসআ্যাপ ও এইসব উপকরণ দেখে পুলিশ নিশ্চিত রাজীব ও শিল্পার মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা ছিল৷ কমপিউটর ইঞ্জিনিয়ার রাজীব কুমার শিল্পার প্রেমে একপ্রকার পাগল ছিল বলে পুলিশের অনুমান৷ লাগাতার জেরাতে তা স্বীকারও করেছে রাজীববাবু বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷ পুলিশ ইতিমধ্যেই ভিড়িঙ্গির ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে৷ তাতে শিল্পার ছবিও ধরা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে দুর্গাপুরের বিধাননগরে মা ও মেয়েকে খুনের ঘটনায় ধৃত ব্যাঙ্ক ম্যানেজারও বেনাচিতির একই দোকান থেকে ব্যাগটি কিনেছিল।
The post ভিড়িঙ্গির ফ্ল্যাটে রাজীবকে নিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাল পুলিশ appeared first on Sangbad Pratidin.
