নামের বানানে সমস্যা ছিল। এসআইআর (SIR in West Bengal) হিয়ারিংয়ে ডাকও এসেছিল। সব নথি জমা দেওয়ার পর পরিবারের সকলের নাম বিচারাধীনের তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দেখার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন প্রৌঢ়। এরপর কী হবে, সেই বিষয় চেপে বসেছিল তাঁকে। আতঙ্কেই মারা গেলেই তিনি! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদে। মৃতের নাম আবদুল শেখ। সোমবার সকালে ঘটনার প্রতিবাদে লালগোলা-বহরমপুর রাজ্যসড়ক অবরোধ করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দোষারোপ করা হয়েছে।
এসআইআরে (SIR in West Bengal) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। প্রচুর সংখ্যায় মানুষের নাম বিচারাধীন রয়েছে। মুর্শিদাবাদ বিধানসভার তেতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া মাঠপাড়ার বাসিন্দা আবদুল শেখ। তিনি, স্ত্রী, চার ছেলে ও বউমা মিলে মোট ১০ জন পরিবারের সদস্য। দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা আবদুল। জানা গিয়েছে, এসআইআর শুরু হওয়ার পর ওই পরিবারের সদস্যদের ডাক পড়েছিল শুনানিতে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আবদুল শেখের ভোটার কার্ডে নামের বানান ভুল ছিল। শুনানির সময় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের সকলকে এভাবে শুনানি ডাকা নিয়ে আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা ছিলই! শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আবদুলের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি পরিবারের। কারণ, পরিবারের ১০ জনের নামই বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। এরপর কী হবে? বাড়িঘর ছেড়ে কি অন্যত্র চলে যেতে হবে? সেই আতঙ্ক ক্রমে গ্রাস করছিল তাঁকে। রবিবার রাতে তিনি প্রবল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। আজ, সোমবার ভোরে তিনি মারা যান। ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়ায়।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা সাধনা মজুমদার এসআইআর আতঙ্কে ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হলেন বলে অভিযোগ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই বলে খবর। বছর ৪২ বয়সের সাধনা প্রবল দুশ্চিন্তা, আতঙ্কে পড়ে যান। এরপরই তিনই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তিনি এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শরীরের একটা দিক প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছে বলে খবর। তাঁর স্বামী অরিন্দম মজুমদার ক্যানসার আক্রান্ত।
