এসআইআর আবহে যে কোণঠাসা বিজেপি তার প্রমাণ মিলল গড়বেতায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতে বিজেপির ‘মেগা কর্মসূচি’ পরিবর্তন যাত্রার সূচনা সভাতে মাঠে ভিড় সেই অর্থে হয়নি। অর্ধেক মাঠ তাও ছিল ফাঁকা। তার উপর সভার আগে স্থানীয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের।
তার আগেই মন্দির যাওয়ার রাস্তায় দেওয়ালে দেওয়ালে ভেসে উঠল বিজেপি-বিরোধী পোস্টার ও ফেস্টুন। তাতে কোথাও লেখা, ‘যতই করো পরিবর্তন যাত্রা, এটাই বিজেপির শেষ যাত্রা।’ কোথাও আবার লেখা, ‘বাঁচতে চাই, চলো বিজেপি তাড়াই।’ এক জায়গায় আবার পোস্টারে দেখতে পাওয়া গেল–‘পাপের ঘড়া পূর্ণ, ছাব্বিশে বিজেপি পাবে শূন্য’। বিরোধিতার আগুন চরমে বুঝেই হয়ত যাওয়ার কথা থাকলেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আর মন্দিরমুখো হননি। গোটাকয়েক বিজেপি সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে এসেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূলের স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য অসীম ওঝা। তিনি বলেন, এসআইআরে যে হারে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে এবারের নির্বাচনে বিজেপি উচিত শিক্ষা পাবে। এই পরিবর্তন যাত্রাটাই হবে বিজেপির শেষযাত্রা। সভামঞ্চেও শুভেন্দু অধিকারীকে এসআইআর নিয়ে একটি বাক্যও ব্যয় করতে দেখা যায়নি। তবে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আগেই ৫৮ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছে। তারপর চূড়ান্ত ভোটার তালিকাতেও অতিরিক্ত ৭ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছে। মোট ৬৫ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছে। আরও ৬০ লক্ষ ভোটার বিবেচনাধীন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশ্য তাঁর ভাষণে দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন ঠিক কাজই করেছে। এদিন সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস অবশ্য সেই হারে দেখা যায়নি। উঠেনি গলা কাঁপিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও। তার বদলে বারবার শোনা গিয়েছে ‘জয় জগন্নাথ’, ‘জয় মা কালী’, ‘জয় সর্বমঙ্গলা’ ধ্বনি। চিরাচরিত ঢঙে অবশ্য শুভেন্দু অধিকারী, ধর্মেন্দ্র প্রধানরা তৃণমূলের সমালোচনা করেছেন। আগামী মে মাসে ডবল ইঞ্জিন সরকার হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, ১০ লক্ষ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যকে দিয়েছেন। কিন্তু রাজ্য টাকা লুঠ করেছে। গড়বেতার আলু চাষিদের সমস্যাকে মাথায় রেখে বলেছেন, সরকার গড়লে তাঁরা ভর্তুকি দিয়ে চাষিদের থেকে আলু কিনবেন। আবার বিজেপিশাসিত রাজ্যে ভাতা চালু থাকলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এখানে এসে বলেছেন, ভাতা চাই না চাকরি চাই। আর শুভেন্দু বলেছেন, তঁারা ভাতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান চান। ফলে সভায় আসা মানুষও দ্বিধাগ্রস্ত মন নিয়েই নেতাদের ভাষণ শুনে ফিরে গিয়েছেন।
