ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। পরবর্তী সময়ে ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় এই মুহূর্তে রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলি। মধ্যপ্রাচ্য এই মুহূর্তে যুদ্ধের কবলে। সৌদি প্রশাসন ইতিমধ্যেই এমার্জেন্সি অ্যালার্ট জারি করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবল দুশ্চিন্তায় পূর্ব বর্ধমানের একাধিক পরিবার। সৌদি আরবে গিয়ে আটকে পড়েছেন ওইসব পরিবারের সদস্যরা। এই মুহূর্তে আকাশপথ বন্ধ। ফলে কবে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন? সেই নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনের মাধ্যেম এখনও যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কী হবে? তাই নিয়েই প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বর্ধমানের কাটোয়া শহর সংলগ্ন নয়াচর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বনাথ মণ্ডল-চম্পাদেবী এই মুহূর্তে প্রবল আতঙ্কিত। তাঁদের একমাত্র ছেলে রাহুল এখন সৌদি আরবে। ইরান হামলা চালাতে শুরু করেছে। এই আবহে সৌদি প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সমস্ত উড়ান বাতিল। ফলে অন্যান্যদের মতো রাহুলও আটকে পড়েছেন সেখানে। ছেলে যাতে নিরাপদে থাকে এখন সেই প্রার্থনা করছেন বাবা-মা। নিয়মিত ছেলের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন তাঁরা।
রাহুল জানিয়েছেন, "যদিও আমি যেখানে রয়েছি সেখান থেকে অনেকটা দূরেই ইরানের মিসাইল হামলা হয়েছে। কিন্তু আমি যে বিল্ডিংয়ে কাজ করছি সেটা ২৮৭ তলা উঁচু।এই এলাকার সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। শুনছি শত্রুপক্ষ বড় বড় বিল্ডিংগুলিকেই নিশানা করছে। তাই খুব দুঃচিন্তায় রয়েছি।"
কেমন আছেন রাহুল? টেলিফোনেই রাহুল জানিয়েছেন, "যদিও আমি যেখানে রয়েছি সেখান থেকে অনেকটা দূরেই ইরানের মিসাইল হামলা হয়েছে। কিন্তু আমি যে বিল্ডিংয়ে কাজ করছি সেটা ২৮৭ তলা উঁচু।এই এলাকার সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। শুনছি শত্রুপক্ষ বড় বড় বিল্ডিংগুলিকেই নিশানা করছে। তাই খুব দুঃচিন্তায় রয়েছি।" বিশ্বনাথ মণ্ডল ও চম্পাদেবী জানাচ্ছেন, ভারত সরকার দ্রুত আটকে থাকা নাগরিকদের ফিরিয়ে আনুক।
ডিডিও কলে রাহুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে পরিবার। নিজস্ব চিত্র
শুধু রাহুল নন, নয়াচরের বাসিন্দা বুলু সিংহ-চন্দনাদেবীর মেয়ে ববিতা বছর খানেক আগে স্বামী রাকেশ শর্মার সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছেন। রাকেশের বাড়ি কেতুগ্রামের বিল্লেশ্বর গ্রামে। পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রাকেশ চারবছর আগে দুবাইয়ে একটি সংস্থায় চাকরিতে যোগ দেন। একবছর আগে নয়াচরের ববিতার সঙ্গে বিয়ে হয়। এখন ওই দম্পতি ওই দেশেই রয়েছেন। তাঁরাও এই মুহূর্তে দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে কবে ফিরতে পারবেন, তাও জানা নেই। ববিতার বাবা বুলু সিংহ বলেন, "মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছে। মিসাইল হানার আওয়াজ কানে আসছে ওদের। চরম উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।"
মঙ্গলকোটের ধারসোনা গ্রামের বাসিন্দা রিপন শেখ পাঁচমাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছেন। সেখানে তিনি গাড়ি রং করার কাজ করেন। তিনিও এখন আটকে পড়েছেন।
মঙ্গলকোটের ধারসোনা গ্রামের বাসিন্দা রিপন শেখ পাঁচমাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছেন। সেখানে তিনি গাড়ি রং করার কাজ করেন। রিপনের দাদা খোকন শেখ বলেন, "ভাইকে ফেরানোর জন্য কিছু ব্যবস্থা করতে আমি স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা করেছি। বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু যতক্ষন না পর্যন্ত ভাই ফিরে আসছে আশ্বস্ত হতে পারছি না।" কাটোয়া থানার বিজয়নগরের এক দম্পতিও আটকে রয়েছেন সৌদি আরবে। কখন দেশে ফিরতে পারবেন সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ওইসব পরিবারের সদস্যরা।
