হাসপাতালে গোড়ালির অপারেশন করতে গিয়ে মৃত্যু বৃদ্ধার! চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পরিবারের সদস্যরা! ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। বনগাঁ থানার যশোর রোড সংলগ্ন এক নার্সিংহোমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে বনগাঁ থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃত বৃদ্ধার নাম সুচিত্রা বিশ্বাস। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগ্রামের ঠাকুরপল্লীর বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী সুচিত্রা বিশ্বাস গত ১২ ফেব্রুয়ারি পায়ের গোড়ালি ভেঙে যাওয়ায় ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিযোগ, ১৬ ফেব্রুয়ারি ডা. অম্লান দে তাঁর পায়ের অস্ত্রোপচার করেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দেখে বাড়ি ফিরে যান। সেসময় রোগী ঠিক ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি।
মৃতার কন্যা জোর করে ওয়ার্ডে ঢুকে নির্দিষ্ট বেডে রোগীকে দেখতে না পেয়ে বাইরে এসে বিষয়টি অন্যান্যদের জানান। পরিবারের দাবি, শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়ে আগে থেকে কোনওরকম খবর দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের সুচিত্রা বিশ্বাসের মৃত্যুর খবর দেন।
পরের দিন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ভিজিটিং আওয়ারে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে রোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁদের বিভিন্ন অজুহাতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর মৃতার কন্যা জোর করে ওয়ার্ডে ঢুকে নির্দিষ্ট বেডে রোগীকে দেখতে না পেয়ে বাইরে এসে বিষয়টি অন্যান্যদের জানান। পরিবারের দাবি, শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়ে আগে থেকে কোনওরকম খবর দেওয়া হয়নি। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের সুচিত্রা বিশ্বাসের মৃত্যুর খবর দেন। স্বামী বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের আলাদা করে ডেকে নিয়ে দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি নিয়ে কোথাও অভিযোগ না জানানোর অনুরোধ করা হয়! এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যু ঘটেছে ওই রোগীর। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয় হাসপাতালের তরফে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বনগাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নার্সিংহোমের প্রধান চিকিৎসক ডাক্তার অম্লান দে বলেন, "বৃদ্ধা আগে থেকেই অনেক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আমরা অপারেশনের আগে পরিবারকে সে কথা জানিয়েছিলাম। সমস্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দেখার পরেই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরিবারও অনুমতি দিয়েছিল। অপারেশনের পরে সুস্থও ছিলেন। হঠাৎ সকালে হার্ট ফেলিওর হয়।" তিনি আরও বলেন, "টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে চাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা কখনওই চাইব না, কোনও রোগীর মৃত্যু হোক।"
