বাদুড়িয়ায় বিএলও-র হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনার পরতে পরতে রহস্য। এই ঘটনার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছেন সদ্য স্বামীহারা নাসির আলির স্ত্রী। কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। বর্তমানে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই মহিলা।
বাদুড়িয়া থানার পাপিলা এলাকার বাসিন্দা বিউটি খাতুন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের শ্বশুরবাড়িতেই ছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, বছর সাতাশের ওই মহিলা স্বামীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তার জেরে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারে। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি বিউটি খাতুনকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ হোসেন মেহেদী রহমান জানান, ধৃত বিএলওর সঙ্গে নাসিরের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কথা দেড় বছর আগে নাসির জানতে পারে। তারপর থেকেই বিএলও রিজওয়ানের সঙ্গে নাসিরের অশান্তি হত। স্বামীর মৃত্যুর পর পরকীয়া প্রকাশ্যে চলে আসায় মানসিক অবসাদে বিউটি আত্মহত্যা করেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মৃত যুবক নাসির আলি, বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার চাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাপিলা গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। দিন পাঁচেক ধরে নিখোঁজ ছিলেন নাসির। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বুথের বিএলও রিজয়ান হাসান মণ্ডল তাঁকে এসআইআর নথি সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেন। নথি নিয়ে দ্রুত লালকুঠি এলাকায় ডাকেন। বিএলওর স্ত্রীর সঙ্গে যুবকের সম্পর্ক থাকায় এসআইআরের কাগজ দেখানোর নামে ডেকে এনে খুন বলে প্রাথমিক অনুমান। গত শনিবার তিনটি খাল থেকে প্যাকেটবন্দি খণ্ড খণ্ড দেহাংশ উদ্ধার হয় নাসিরের। অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত নথির অছিলায় নাসিরকে দেখা করতে ডেকে খুন করা হয়। পরে দেহ লোপাটের জন্য পরিকল্পনা করা হয়। মৃতদেহ খণ্ড খণ্ড করে কাটা হয়! সেসব খণ্ড প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে এলাকারই একাধিক জলাশয় ও খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই কাজে যুক্ত সন্দেহে প্রদীপ মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রদীপকে? সেই বিষয়ে পুলিশ কোনও কথাই জানাতে চায়নি। তার আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বসিরহাটের বাদুড়িয়া থানার চাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ান এবং সাগর গাইনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
