বারুইপুরে (Baruipur) বিজেপিকর্মী বাপি প্রামাণিক খুনে সিবিআই তদন্ত দাবি করল মৃতের পরিবার। মৃতের দুই মেয়ের দাবি, ঘটনার মূলে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করালে হবে না। অন্যদিকে, ধৃত প্রাক্তন বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলের স্ত্রীর দাবি, তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি নির্দোষ। খুনে প্রাক্তন বিজেপি নেতা-সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি।
প্রায় ১৮ বছর বাড়ি ছাড়া ছিলেন বিজেপির 'আদি' কর্মী বাপি। রাজ্যে পালাবদলের পর গ্রাম ফেরেন। এলাকার লোকজন তাঁকে মান্যতা দিচ্ছিলেন। তাহলে কেন খুন হতে হল তাঁকে? বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁর মেয়েরা। পরিবারের দাবি, তৃণমূল জমানায় প্রভাবশালী নেতারা এলাকা ছাড়া। ট্যাঙরাবেড়িয়া এলাকায় তাঁরা ফের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। মৃতের পরিবারের দাবি, সেই তৃণমূল নেতারা সুজন মণ্ডল ও কয়েকজন বিজেপি নেতার মাধ্যমে বাপিকে ১০ লক্ষ দিয়ে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তবে রাজ হননি বাপি।
মৃতের দুই মেয়ে মন্দিরা সর্দার, সোনালি প্রামাণিক জানাচ্ছেন, টাকার প্রস্তাব পাওয়ার পর বাবা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি টাকা নেবেন না। যাঁদের জন্য তিনি দীর্ঘ বছর বাড়ি ছাড়া ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে আপস করতে পারবেন না। সেই ঝামেলার জন্য এই কাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৃতের এক মেয়ে বলেন, "বাবা বিজেপি করত। তারপর ওদের মধ্যে ঝামেলা। তৃণমূলের লোকও ছিল। তাতেই এই কাণ্ড। বাবাকে বলা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে ভাগ করে নিতে। কিন্তু বাবা রাজি হননি। রাগ ছিল। তাতেই এই কাণ্ড।"
পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে। গ্রেপ্তার সুজন বিজেপির নেতা বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর বলেন, "সুজন মণ্ডল দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন দলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।" পরিবারের সিবিআই দাবি নিয়ে তিনি বলেন, "যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা সবাই তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। দোষীদের শাস্তি হবে।"
