বাংলা ভাষায় কথা বলায় 'বাংলাদেশি' সন্দেহে ফের ভিন রাজ্যে হেনস্তার শিকার মুর্শিদাবাদের শ্রমিক। অভিযোগ, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু পুলিশের হাতে আটক মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিক। খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয় পরিবার। অবশেষে হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কয়েক ঘন্টা পর মুক্তি পান শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর ভাকতুর থানার ওয়ান্ড ফিল্ড এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিহরপাড়া থানার চুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরপুর বেলতলার যুবক সাহিদ রানা মণ্ডল। গ্রামে তাঁর মোবাইলের দোকান ছিল। ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। অবশেষে সাহিদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি ভিনদেশে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করবেন। কিছু টাকা উপার্জন করে জমিয়ে গ্রামে ফিরে এসে নতুন করে ব্যবসায় নামবেন। ছেলের এই সিদ্ধান্তে পরিবার পাশে এসে দাঁড়ায়। বছরখানেক আগে সাহিদ পাড়ি দেন কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে।
শনিবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ল্ড ফিল্ড এলাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তিনি। 'বাংলাদেশি' সন্দেহে তাঁকে আটক করে ভাকতুর থানার পুলিশ। সাহিদকে আটকের খবর এসে পৌঁছতেই উৎকণ্ঠায় পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
মাস কয়েক পর কুরবানি ইদে তাঁর বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল। শনিবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ল্ড ফিল্ড এলাকায় ঘুরতে বেরিয়ে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে তাঁকে আটক করে ভাকতুর থানার পুলিশ। বাংলাদেশি সন্দেহে সাহিদকে আটকের খবর এসে পৌঁছতেই উৎকণ্ঠায় পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। অসহায় হয়ে তাঁরা দ্বারস্থ হন হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখের। বিষয়টি জানার পর বিধায়ক হরিহরপাড়া থানার পুলিশে খবর দেন। হরিহরপাড়া থানার পুলিশ দ্রুত যোগাযোগ করেন কর্ণাটকের ভাকতুর থানার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে। অবশেষে কয়েক ঘণ্টা পর সাহিদকে ছেড়ে দেয় ভাকতুর থানার পুলিশ।
সাহিদের বাবা আফজল আলি মণ্ডল জানান, "ছেলে ব্যবসায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে গিয়েছিল বছরখানেক আগে। সেখানে বাংলা ভাষায় কথা বলার অভিযোগে পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে সাহিদকে আটক করে নিয়ে যায় ভাকতুর থানায়। সাহিদ আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড দেখালেও ভাকতুর থানার পুলিশ তাঁকে কোনওভাবেই ছাড়ছিল না। অবশেষে বিধায়ক নিয়ামত শেখ ও হরিহরপাড়া থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দিয়েছে কর্ণাটক পুলিশ।" এ প্রসঙ্গে বিধায়ক নিয়ামত শেখ বলেন, "দেশজুড়ে বিজেপি বিভেদের রাজনীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। বাংলা ভাষা ও বাঙালি মানে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পরিযায়ীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। অবিলম্বে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর এই হেনস্তা বন্ধের দাবি জানাছি।"
