এসআইআরের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে বাংলায়। ৬০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম আপাতত বিচারাধীন। বাংলার নাগরিকদের ভোটের অধিকারের লক্ষ্যে লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবহে আরও একজন সহ নাগরিকের মৃত্যু! SIR চূড়ান্ত তালিকায় দুই ছেলের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর নামও বিচারাধীন। শেষপর্যন্ত কী হবে? সেই আতঙ্কে নিজেকেই শেষ করে দিলেন প্রৌঢ়া! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাদুড়িয়ায়। মৃতার নাম রীনারানি কুণ্ডু।
জানা গিয়েছে, বাদুড়িয়ার পশ্চিম চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবার। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় বছর ৫০ বয়সী রীনারানি কুণ্ডুর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, তাঁর দুই ছেলে শুভদীপ ও সৌমেনের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে! এখানে দীর্ঘদিন বাস করার পর, নথিপত্র থাকার পরও এমন ঘটনা কীভাবে হয়? সেই প্রশ্ন উঠেছিল।
ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকে 'আতঙ্কিত', 'দুশ্চিন্তাগ্রস্ত' ছিলেন ওই প্রৌঢ়া। ছেলেদের কী হবে? ভোটাধিকার ফিরে পাবেন তো তাঁরা? সেই প্রশ্ন করছিলেন কয়েক দিন ধরে। সেই 'দুশ্চিন্তায়' আজ, সোমবার নিজের বাড়িতে ' আত্মঘাতী' হলেন তিনি। জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বাদুড়িয়া সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে গিয়েছিলেন তাঁর দুই ছেলে সৌমেন ও শুভদীপ। সেসময় তাঁদের কাছে মোবাইলে খবর আসে, মা 'আত্মঘাতী' হয়েছেন। নিজের ঘরেই গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাওয়া যায়।
ছেলেরা দ্রুত বাড়িতে ফিরে যান। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাদুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার জেরেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মা-কে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন দুই ছেলে।
