বাংলার দোরগোড়ায় ভোট। ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বাংলায় কমিশনের ফুলবেঞ্চ। এরমধ্যেই এসআইআরে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সোমবার ধরনার চতুর্থদিন। এরই মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাগাতার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে এবার অনশনে বসলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর অভিযোগ, চক্রান্ত করে নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। এমনকী জনপ্রতিনিধিদেরও নাম 'বিচারাধীন' তালিকায় রাখা হচ্ছে। আর তা জায়গা ধরে পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে তোপ উদয়ন গুহের।
সোমবার সকাল থেকে দিনহাটা মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে গণঅনশনে বসেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। মন্ত্রীর নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন ব্লক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকরাও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। উদয়ন বলেন, ''আমাদের নেত্রী কলকাতায় অবস্থান করছেন। সেই অবস্থানের সমর্থনে এবং চক্রান্তের প্রতিবাদে আমরা গণঅনশনে বসেছি।'' তাঁর দাবি, ''যে সমস্ত মানুষ দিনের পর দিন ভোট দিয়ে আসছেন তাঁদের নাম চক্রান্ত করে বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের নাম বিচারাধীন তালিকায় দিনের পর দিন রেখে দিয়ে মানসিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।''
শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে বলেও তোপ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, ''ধর্মীয়ভাবে মানুষকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আর তা বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই হচ্ছে।'' এমনকী ছিটমহলের বহু নাগরিকের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা নিয়েও এদিন কমিশনকে একহাত নেন উদয়ন গুহ।
এদিকে এদিনই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকের শুরুতেই যাতে একজন বৈধ ভোটারেরও নাম বাদ যেন না যায়, সে আর্জি জানান শাসক শিবিরের প্রতিনিধি তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যদিও তাঁর অভিযোগ, এসব কথা শুনতে চাননি জ্ঞানেশ। তিনি বলেন, “উনি একাই কথা বলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন। চেঁচাচ্ছেন। বলছেন, আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আর কিছু বলার নেই। অন্য জায়গায় সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া অপরাধ নাকি? আমাদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার আছে। আমি একজন মহিলা। আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট। আমি বললাম, কীভাবে বলছেন আপনি? তার মানেই বোঝা যাচ্ছে মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। তার জন্য মহিলাদের নাম বাদ দিচ্ছেন।” ফর্ম ৭ নিয়ে তথ্যগত গরমিলের অভিযোগও তোলেন চন্দ্রিমা।
