সেবক-রংপো রেলপথের কাজ শেষের পথে। ডিসেম্বর থেকে চলতে পারে ট্রেন। এবার রেল সিকিমের গ্যাংটক-নাথু লা প্রস্তাবিত রেলপথের চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ৩৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রংপো–গ্যাংটক অংশের জন্য সমীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সেবক-রংপো রেলপথ চালু হলে দ্বিতীয় দফায় ওই কাজ শুরু হবে। পর্যটকরা শিলিগুড়ি থেকে ট্রেনে পৌঁছে যেতে পাবেন গ্যাংটকে। এরপর চিন সীমান্তের নাথু লায়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত নাথু লা-গ্যাংটক রেলপথের চূড়ান্ত এলাকা সমীক্ষা শুরু হয়েছে। ৩৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রংপো–গ্যাংটক অংশের জন্য সমীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা ও অনুমোদন চূড়ান্ত হয়ে গেলে দু'বছরের মধ্যে গ্যাংটক–নাথু লা অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এদিকে, সেবক–রংপো রেলপ্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রায় শেষপর্যায়ে। ওই কাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। তিস্তা বাজার ও মেলি বাজারের মাঝখানে হিমালয়ের গর্ভ থেকে পাথর-মাটি সরিয়ে প্রায় ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ পথ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে। সেই সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কঠিনতম কাজ।
পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে সংযোগকারী ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৪১.৫ কিলোমিটার এবং সিকিমে ৩.৫ কিলোমিটার রয়েছে। এই রেলপথ চিন সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয়ের রাজ্যটিকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে সংযোগকারী ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৪১.৫ কিলোমিটার এবং সিকিমে ৩.৫ কিলোমিটার রয়েছে। এই রেলপথ চিন সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয়ের রাজ্যটিকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ৩৮.৬৫ কিলোমিটার টানেল, ২.২৪ কিলোমিটার সেতু এবং ৪.৭৯ কিলোমিটার স্টেশন ইয়ার্ড।
লাইনটির ১৪টি টানেলের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ৫.৩০ কিলোমিটার এবং সবচেয়ে ছোট ৫৩৮ মিটার। রয়েছে ২২টি সেতু এবং সেবক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেল্লি ও রংপো নিয়ে মোট ৫টি স্টেশন। তিস্তাবাজারে ভূগর্ভে স্টেশন-সহ বেশিরভাগ স্টেশন তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এছাড়াও ১৯টি সেতু নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বাকি স্টেশন এবং সেতুগুলির কাজ চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ নম্বর টানেলের কাজ শেষ হয়েছে। শেষ ১০ নম্বর টানেলের কাজ চলছে।
৪৪.৯৮ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইনের বেশিরভাগ টানেলের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। মাত্র একটি বাকি আছে। ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্র্যাক স্থাপনের কাজ ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। রেল সূত্রে খবর, রংপো-সেবক প্রকল্পের মোট ব্যয় ১১,৯৭৩ কোটি টাকা।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এক কর্তা জানান, ৪৪.৯৮ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইনের বেশিরভাগ টানেলের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। মাত্র একটি বাকি আছে। ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্র্যাক স্থাপনের কাজ ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। রেল সূত্রে খবর, রংপো-সেবক প্রকল্পের মোট ব্যয় ১১,৯৭৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ৮,৩৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য ২,৯৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০০৯ সালে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৪৫ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার টানেলের ভিতর দিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে এই রেলপথ গ্যাংটক পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেটির সমীক্ষা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরে সেবক-রংপো রেলপথ চালু হলে রংপো-গ্যাংটক প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এরপর চিন সীমান্তের নাথু-লা জুড়বে রেলের মানচিত্রে।
