দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) প্রিন্টিং প্রেস থেকে টিকিট পরীক্ষক। স্বপ্নের উড়ান দার্জিলিংয়ের সোনাদানার কন্যা সরিতা ইওলমোর। পাহাড়ি পাকদণ্ডী বেয়ে আস্ত ট্রেনের দায়িত্ব নিয়ে বৃহস্পতিবার তাঁর রোমাঞ্চকর সফর শুরু হয়েছে। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সম্মান প্রাপ্ত টয় ট্রেনের ১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা ট্র্যাভেলিং টিকিট পরীক্ষক হয়ে তিনি যেমন গর্বিত। একইভাবে রোমাঞ্চিত ডিএইচআর।
সোনাদা হাই স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন সরিতা ইওলমো। এরপর দার্জিলিং কলেজে ভর্তি হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। কারণ, ১৯৯১ সালে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের কার্শিয়াং বিভাগে রেলওয়ে প্রেসে চাকরি পেয়ে যান। সেই শুরু টয় ট্রেনের সঙ্গে সখ্যতা। এরপর প্রেস বন্ধ হলে স্টেশন চেকিং এবং ঘোষণা শাখায় কাজ করতেন। সেখান থেকে রেলের কমার্শিয়াল বিভাগে চলে যান। সরিতার স্বামী দাওয়া ইওলমো রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। গত বছর তিনধারিয়ার রেলওয়ে ওয়ার্কশপ থেকে সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
সরিতার কথায়, "দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ইতিহাসে প্রথম মহিলা টিটিই হতে পেরে আমি গর্বিত। ট্রেনে টিটিই হিসেবে আগে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। তবু সাহস সঞ্চয় করে টয় ট্রেন সার্ভিসে প্রথম মহিলা টিটিই হিসেবে যাত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গন্তব্যে পৌঁছে ভালো লেগেছে।"
তাঁদের একমাত্র কন্যা পড়াশোনার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত। সম্প্রতি সরিতা দার্জিলিং হিমালয়ান রেল অর্থাৎ টয় ট্রেনে ট্র্যাভেলিং টিকিট পরীক্ষয়ের (টিটিই) দায়িত্ব পেয়ে পরিবার, রেল কর্তৃপক্ষ এবং তিনি নিজেও যতটা না উচ্ছ্বসিত তার অনেক বেশি রোমাঞ্চিত। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, সরিতার উত্তরণের গল্প রেলওয়ের বিকশিত চেতনার প্রমাণ। কেন এমনটা বলবেন না? দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ঐতিহাসিক মাইলফলকের সাক্ষী হয়েছে। সরিতা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ মর্যাদাপ্রাপ্ত টয় ট্রেনের সম্মানজনক 'ট্যুর ডিউটি'-তে নিযুক্ত প্রথম মহিলা ট্র্যাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (টিটিই)। এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁর যাত্রা ছিল অসাধারণ অধ্যবসায়ের ফসল।
দায়িত্ব পেয়ে সরিতার প্রথম প্রতিক্রিয়া, "দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ইতিহাসে প্রথম মহিলা টিটিই হতে পেরে আমি গর্বিত।" তিনি জানান, যখন তাঁকে ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় তখন তিনি রোমাঞ্চিত ছিলেন। পাশাপাশি উদ্বিগ্নও ছিলেন। তার কথায়, "আমি দার্জিলিং থেকে এসেছি। কিন্তু ডিএইচআরে কাজ করার আগে আমার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। আগে যাত্রী হিসেবেই টয় ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন।"
টয় ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সরিতা।
এখন সেই সরিতা ইওলমো এনজেপি-দার্জিলিং রুটে একমাত্র মহিলা টিটিই। যাত্রার একদিকে প্রায় আটঘন্টা সময় লাগে। তিনি এনজেপি থেকে সকালের ট্রেনে ওঠেন। শৈলশহরে রাতে থেকে পরের দিন ফিরে আসেন।এনজেপি-দার্জিলিং রুটের জন্য টিটিইদের এনজেপিতে চিফ ট্র্যাভেলিং টিকিট ইন্সপেক্টর (সিটিটিআই) অফিস থেকে নিযুক্ত করা হয়। সরিতাকে সেভাবেই নিয়োগ করা হয়। প্রথম দিনের কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? সরিতার কথায়, 'ট্রেনে টিটিই হিসেবে আগে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। তবু সাহস সঞ্চয় করে টয় ট্রেন সার্ভিসে প্রথম মহিলা টিটিই হিসেবে যাত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথম যাত্রায় একটু উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে ভালো লেগেছে।'
