ফের ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের! মৃত ওই ব্যক্তির নাম শক্তিপদ দাস। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের কমলপুরের বাসিন্দা। তামিলনাড়ুতে তিনি কাজের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানেই একটি ইটভাটায় কাজের সময় ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মেশিনের মধ্যে শরীরের একটা অংশ ঢুকে আটকে গিয়েছিল। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। সংসারে অনটন প্রবল। সেকারণেই তিনি পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন বলে পরিবার সূত্রে খবর। দুঃসংবাদ শুনে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার।
বছর ৪০ বয়সী গঙ্গাসাগরের কমলপুরের বাসিন্দা শক্তিপদ দাস তামিলনাড়ুতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। ওই রাজ্যে একটি ইটভাটায় কাজও করছিলেন। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সংসারের অনটন মেটাতে চাইছিলেন তিনি। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কঠোর পরিশ্রমও করছিলেন। বৃহস্পতিবার তার মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
মেশিনে হাত আটকে যাওয়ায় সেটি বের করার জন্য নিচু হয়েছিলেন তিনি। সেসময় শরীরের বেশ কিছুটা অংশও মেশিনের ভিতর ঢুকে যায়! ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অন্যান্য শ্রমিকরা। কিন্তু শক্তিপদবাবুর আটকে যাওয়া শরীর মেশিন থেকে বের করা যায়নি।
গতকাল সকালে শক্তিপদ দাস কাজ করছিলেন। ইট তৈরির জন্য মিক্সার মেশিনে কাদামাটি ঢোকানোর সময় তাঁর হাত মেশিনের মধ্যে ঢুকে যায়! ওই মেশিনে হাত আটকে যাওয়ায় সেটি বের করার জন্য নিচু হয়েছিলেন তিনি। সেসময় শরীরের বেশ কিছুটা অংশও মেশিনের ভিতর ঢুকে যায়! ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অন্যান্য শ্রমিকরা। কিন্তু শক্তিপদবাবুর আটকে যাওয়া শরীর মেশিন থেকে বের করা যায়নি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। শেষপর্যন্ত গ্যাসকাটার দিয়ে মেশিন কেটে বার করা হয় শক্তিপদ দাসের মৃতদেহ। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
মৃতের ভাই প্রবীর দাস জানিয়েছেন, পরিবারে আর্থিক অনটন চলায় তাঁরা প্রায় সময়ই ভিনরাজ্যে কাজে যান। তাঁর বড়দা শক্তিপদ দু'মাস আগে তামিলনাড়ুতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁদের মেজভাই ও তাঁর পরিবার রয়েছেন। মৃতের ছোট ছেলে ও জামাইও তামিলনাড়ুতে আছেন। বড়দার দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সামর্থ নেই। সেজন্য মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর তামিলনাড়ুতেই দেহ সৎকার করা হবে বলে প্রবীর দাস জানিয়েছেন।
