কাঁকড়া ধরার সময় ঘাড়ের উপর ঝাঁপাল বাঘ! রয়্যাল বেঙ্গলের (Royal Bengal Tiger) সঙ্গে লড়াই করেও সঙ্গীকে বাঁচাতে পারলেন না মৎস্যজীবীরা। বাঘের হানায় মৃত্যু হল ওই ব্যক্তির। সুন্দরবনে (Sundarbans) কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের বাঘের হানায় মৃত্যু। মৃতের নাম গোপাল ঢালি। মৃতদেহ উদ্ধার করে পরে এলাকায় ফিরিয়ে আনা হল। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া।
সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দারা কার্যত জলে কুমির ডাঙায় বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকেন। পেটের টানে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের খাঁড়িতে যান অনেক মৎস্যজীবী। বাঘের হানায় মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে। ফের সুন্দরবনে বাঘের হানায় মারা গেলেন এক ব্যক্তি। মৃতের বাড়ি ঝড়খালি ৪ নম্বর এলাকায়। মৃতদেহ দেখে কান্নার রোল উঠেছে বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহষ্পতিবার সুন্দরবনের জঙ্গলের ভিতরের খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন বছর ৪৫ বয়সের গোপাল ঢালি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশী সুমন মণ্ডল ও আরও একজন। শনিবার বিকেলে দেউলভারানি জঙ্গল সংলগ্ন খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরছিলেন তাঁরা। জলের দিকে গভীর মনসংযোগ করেছিলেন তাঁরা। এদিকে সেসময় গভীর বন থেকে বেরিয়ে এসেছিল একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। শিকার হিসেবে বাঘটি গোপালকে টার্গেট করে। সন্তর্পণে পাড়ের দিকে গিয়ে গোপালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দক্ষিণরায়।
জলের দিকে গভীর মনসংযোগ করেছিলেন তাঁরা। এদিকে সেসময় গভীর বন থেকে বেরিয়ে এসেছিল একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। শিকার হিসেবে বাঘটি গোপালকে টার্গেট করে। সন্তর্পণে পাড়ের দিকে গিয়ে গোপালের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দক্ষিণরায়।
গোপালের ঘাড় কামড়ে তাঁকে বনের ভিতর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঘটি। ঘটনা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন অন্য দুই মৎস্যজীবী। পরে গোপালকে বাঁচাতে দু'জনেই পালটা বাঘের দিকে ধেয়ে যান। বাঘের সঙ্গে দুই সঙ্গীর লড়াই শুরু হয়। হামলার মুখেও শিকারকে ছাড়তে রাজি ছিল না বাঘটি। পালটা ওই দুই মৎস্যজীবীর উপরেও হামলা চালায় বাঘটি। ঘণ্টাখানেক অসম লড়াইয়ের পরও বাঘের মুখ থেকে সঙ্গীকে উদ্ধার করতে পারেনি তাঁরা। বাঘ গোপালকে বনের ভিতর টেনে নিয়ে যায়।
কিন্তু সঙ্গীকে ফেলে বাড়ি ফিরতে নারাজ ছিলেন ওই দুই মৎস্যজীবী। দীর্ঘ সময় প্রাণ হাতে নিয়ে অপেক্ষার পর রবিবার সকালে ফের তাঁরা ওই বনের ভিতর ঢোকেন। দুই মৎস্যজীবী রবিবার বাঘের পায়ের ছাপ অনুসরণ করে সঙ্গীর খোঁজ শুরু করেন। কিছু সময় খোঁজার পর তাঁরা গোপাল ঢালির রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি দেহটি উদ্ধার করে নৌকায় তোলা হয়। গতকাল, সোমবার রাতে ঝড়খালির গ্রামের বাড়িতে পৌঁছয় তারা। সেখান থেকে মৃতদেহ বাসন্তী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, গোপালের স্ত্রী, বছর ১৯-এর কন্যা ও ১০ বছরের ছেলে আছে।
