তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল। 'দলবদলু' নেতা জানিয়ে দিলেন তিনি বিজেপিতেই আছেন! তৃণমূলের লোকজন বন্দুক ধরে ভয় দেখিয়ে তাঁকে দলে যোগদান করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই নেতা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটায়। ঘটনা সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে শোরগোল। 'বিতর্কিত' কমল মণ্ডল দিনহাটার ৩ নম্বর মণ্ডল বিজেপির সভাপতি পদে ছিলেন বলে খবর।
গতকাল, সোমবার তৃণমূলের কার্যালয়ে গিয়ে দলবদল করেছিলেন কমল মণ্ডল। তিনি বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। বিধানসভা ভোটের আগে এই দলবদল যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিল ওয়াকিবহাল মহল। সেই দলবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল ওই নেতার। আজ, মঙ্গলবার তিনি বিজেপির কার্যালয়ে যান। দাবি করেন, তাঁকে জোর করে তৃণমূল কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, শুধু তাই নয়, বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে দলবদল করানো হয়। তাঁর তুলে দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের দলীয় পতাকা!
এদিন সেই কমল মণ্ডলকে পাশে বসিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির সম্পাদক অজয় রায়। জানানো হয়, গতকাল, সোমবার নিগমনগর বাজার এলাকায় ছিলেন। অভিযোগ, সেসময় তৃণমূলের লোকজন বন্দুক দেখিয়ে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যান। সেখানেই জোর করে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে দিয়ে দলবদল করানো হয়! অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে নিতে হয়। তিনি বিজেপিতেই রয়েছেন। গেরুয়া নেতা কমল মণ্ডলও জানিয়েছেন, তাঁকে জোর করে তৃণমূল কংগ্রেসে যুক্ত করানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব।
ঘটনা জানাজানি হতেই জেলা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও বিজেপির তোলা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই নিয়ে পাল্টা জবাব দেন তৃণমূলের দিনহাটা ২ নম্বর ব্লক সভাপতি দীপক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "কমল নিজেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা করে যোগদানের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তাই তিনি স্বেচ্ছায় গতকাল তৃণমূলে যোগ দেন।"
