সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত জুডিশিয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোজ পন্থ। তাঁর এই উপস্থিতিকে 'বেআইনি' আখ্যা দিয়ে তোপ দাগলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে হওয়া জুডিশিয়াল বৈঠকে রাজ্য ও কমিশনের কোন কোন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। তাহলে কী করে মনোজ পন্থ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর যুক্তি, প্রাক্তন আইএএস অফিসার এখন আর মুখ্যসচিব পদে নেই। তাই তিনি থাকতে পারেন না। এ দিকে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, চিফ জাস্টিসের অনুমতিক্রমে মনোজ পন্থ বৈঠকে গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার বারাসতে দলীয় 'চার্জশিট' কর্মসূচিতে এসেছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেখানে এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম-রায়ের সাম্প্রতিক নির্দেশের কপি তুলে ধরে সুকান্ত বলেন, "দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে হওয়া জুডিশিয়াল বৈঠকে রাজ্য ও কমিশনের কোন কোন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। এর বাইরে কারও থাকার কথা নয়! মনোজ পন্থ এখন আর রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে নেই। তারপরও কোন পদাধিকারী বলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত জুডিশিয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন!"
এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়ে তাঁর সংযোজন, "নির্দেশ অমান্য করে ২০ ফেব্রুয়ারি ওঁর (মনোজ পন্থ) বৈঠকে উপস্থিত থাকার খবর বিশ্বস্ত সূত্র মারফত আমার কাছে এসেছে। তাঁর বৈঠকে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। আমার প্রশ্ন, এরকম একজন অবাঞ্চিত লোক কী ভাবে সেই বৈঠকে হাজির থাকতে পারলেন। এতেই স্পষ্ট, এসআইআর'কে প্রতি মুহূর্তে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল সরকার। এটা অপরাধের সামিল। অবিলম্বে এফআইআর করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত।"
উল্লেখ্য, চলতি বছরে মনোজ পন্থের মুখ্যসচিব হিসাবে মেয়াদকাল শেষ হয়। তারপর পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব হন নন্দিনী চক্রবর্তী। মনোজ পন্থকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। এবার এসআইআর নিয়ে বৈঠকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। তবে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রধানবিচারপতির অনুমতি নিয়েই বৈঠকে ছিলেন তিনি।
