বাংলাদেশি পর্যটকদের (Bangladeshi Tourist) জন্য ফের খুলছে উত্তরবঙ্গের হোটেলের দরজা! তুলে নেওয়া হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে শিলিগুড়ি (Siliguri) কিংবা উত্তরবঙ্গে (North Bengal) এসে যে কোনও হোটেলেই বাংলাদেশের পর্যটকরা থাকতে পারবেন। এমনটাই জানিয়েছেন গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। গত সপ্তাহেই বাংলাদেশে নির্বাচনের পর স্থায়ী সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের হাত ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ওপার বাংলা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলো খোলার নির্দেশ দিয়েছে। ইউনুস জমানার অতীত ভুলে ফের একবার কাছাকাছি আসতে চলেছে ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্ক। এই অবস্থায় নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন হোটেল মালিকরা। শুধু তাই নয়, লাভের মুখ দেখা যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ইউনুসের আমলে ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্ক অন্যদিকে মোড় নেয়। একাধিক ইস্যুতে দু'দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়ে। এরমধ্যেই সীমান্তের ওপার থেকে লাগাতার হুমকি এবং হুঁশিয়ারি চলতে থাকে। যার প্রভাব পড়ে এপার বাংলাতেও। ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে শিলিগুড়িতে বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য সমস্ত হোটেলে রুম ও পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেয় হোটেল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এক মাস পরেই মানবিকতার খাতিরে মেডিকেল ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসায় আসায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য অবশ্য ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফের বাংলাদেশে অশান্তি বাড়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশিদের জন্য পরিষেবা বন্ধ করে দেয় হোটেল মালিকরা। এরপর গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর কিছুটা শান্তি ফেরায় আবার বাংলাদেশিদের জন্য পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায় হোটেল মালিকরা।
গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, "বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে যেভাবে বিদ্বেষ ছড়িয়েছিল সেকারণে আমরা এর আগে আলোচনা করে ও ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলাম। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি ফের নতুন সরকার আশায় ধীরে ধীরে ভারতের সঙ্গে ফের একবার সুসম্পর্ক স্থাপনের আশা মিলছে। সেকারণে আমরা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং একই প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে সে দেশের পর্যটকদের জন্য আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। আমরা আবার বুকিং নেবো ও পরিষেবা দেবো। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।"
সংগঠনের সম্পাদক সন্দীপ কুমার দাঁ বলেন, "ভোটাভুটির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৭৫ শতাংশ সদস্যরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আগামীতে আবার যদি ভারত বিদ্বেষ আমরা দেখতে পাই তবে আবার সেই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'' তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ রাখায় মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় হোটেল মালিকদের। এই প্রসঙ্গে সন্দীপ কুমার দাঁ বলেন, ''আমাদের এই কয় মাসে প্রায় ৩ কোটির বেশি ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সবার আগে দেশ। সেকারণে আমরা এই ক্ষতি মানিয়ে নিচ্ছি।"
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার পর্যটকরা ভারতে এসে থাকে। মূলত চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য সংখ্যাটা বেশি। তবে অন্তর্বতী সরকারের সময় তা কমে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। শিলিগুড়িতে প্রায় ২৭০ টি হোটেল রয়েছে। হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে প্রায় ১৮৫টি হোটেল রয়েছে।
