পুরুলিয়ার মনসুন টুরিজমে বিশেষ আকর্ষণ! এই পাহাড় শৈলশহর দার্জিলিং নয়। তবে বর্ষায় এই পাহাড়ও দার্জিলিং-র মত-ই মেঘে ঢেকে থাকে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে সেই পদ্মার ইলিশকেই ঘটি-বাঙালের ধাঁচে না রেঁধে মানভূঁইয়া ও উপজাতীয় ঢঙে টেবিলে পরিবেশন। তাই তো নাম 'হিলস অফ ইলিশ'। অযোধ্যা হিলটপের কচুরিরাখায় রাজ্য পর্যটন বিভাগের লিজ প্রাপ্ত কুশল পল্লীতে এই নামেই শুরু হচ্ছে ইলিশ উৎসব। ১০ জুলাই থেকে একেবারে টানা ১ মাস ১০ই আগস্ট পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। যা পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে এই প্রথম। বর্ষার মরশুমে মনসুন টুরিজমে ব্যাপক হারে পর্যটক টানতেই ওই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের এমন ইলিশকে ঘিরে উৎসবের আয়োজন।
বর্ষায় পর্যটকদের জন্য বিশেষ আয়োজন।
উন্নততর পর্যটন পরিকাঠামোতেও রীতিমতো দার্জিলিংয়ের সঙ্গে এখন পাল্লা দিচ্ছে অযোধ্যা পাহাড়। হিলটপে ইলিশ উৎসব যেন তারই অন্যতম উদাহরণ। ওই চারতারা রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার সুদীপ্ত কুমার বলেন, "কলকাতা ও শহরতলির ইলিশ উৎসবের ছোঁওয়া আমরা অযোধ্যা পাহাড়ে দিচ্ছি। কিন্তু কিছুটা পৃথকভাবে আমাদের নিজস্বতায়। মানভূঁইয়া ও উপজাতীয় ঢঙে মশলার ব্যবহার করে রসনা তৃপ্তিতে ইলিশকে ঘিরে এক অনন্য অভিজ্ঞতা আমরা তুলে ধরতে চাইছি। যেখানে আমাদের রেস্তোরাঁর কর্মীরা ইলিশ নিয়ে গল্পও শোনাবেন।" তার জন্য রীতিমতো ইলিশ পরিবেশন করা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাটির পাত্রে রান্না করে, মা-ঠাকুমার মতো মশলা বেঁটে কলাপাতায় পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যে ফ্লুইড বার হয় তার যে উপকারী সে গল্পও বাতলে দেবেন ওই রিসোর্টের পরিবেশকরা।
ইলিশের রকমারি পদ পরিবেশনে এক্সিকিউটিভ শেফ রাধাশ্যাম।
ওখানকার এক্সিকিউটিভ শেফ রাধাশ্যাম বেরা বলেন, "দোকান থেকে আনা সরষে নয়, এই পাহাড়ের মাটিতে ফলন হওয়া সর্ষে দিয়েই ইলিশের নানান বাহারি আয়োজন আমরা পর্যটকের কাছে তুলে ধরবো।" কি নেই সেই ইলিশের পদে? রাজবাড়ির সরষে ইলিশ। সেই সঙ্গে অযোধ্যা স্মোকড ইলিশ, গন্ধরাজ ভাপা, পদ্মা পাড়ের দই ইলিশ, চট্টগ্রামের ইলিশ ভুনা, বেগুন দিয়ে কাঁচালঙ্কা ইলিশ ঝোল আর ইলিশ পাতুড়ি। এগুলো সবর-ই দাম ১০৯৯ টাকা। সেই সঙ্গে ঢাকাই দম ইলিশ বিরিয়ানি রয়েছে। তার দাম ৭৯৯। এছাড়া ৬৯৯ টাকায় রয়েছে অযোধ্যা হিল ইলিশ বিরিয়ানিও।
