shono
Advertisement
Andal

দলেই কাটমানি কালচার, চাকরির লোভে তৃণমূল নেতার কাছেই প্রতারিত অন্ডালের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান!

অভিযোগকারীর দাবি, খাদ্য দপ্তর ও আবগারি দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতানো হয়।
Published By: Arpita MondalPosted: 05:07 PM Jul 23, 2026Updated: 05:07 PM Jul 23, 2026

তৃণমূল জমানায় সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির 'ঘুঘুর বাসা'র পর্দাফাঁস অনেক আগেই হয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকাকালীনই শিক্ষা-স্বাস্থ্য-খাদ্য দপ্তরে চাকরি টোপ দিয়ে যে কোটি কোটি টাকা হাতানো হয়েছিল। তা আগেই সামনে এসেছিল। এবার রাজ্যে পালাবাদলের পর সামনে দলের আরও কুকীর্তি। নিজের দলের লোকের কাছ থেকেই কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে! সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে। অভিযোগকারী অন্ডালের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। তাঁর দাবি, খাদ্য দপ্তর ও আবগারি দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতানো হয়। অভিযুক্ত এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূলীরা।

Advertisement

অভিযোগ, চাকরির নামে প্রশিক্ষণ, ইন্টারভিউ, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও পরে সমস্ত নথিই ভুয়ো বলে জানতে পারেন তিনি। এমনকী টাকা ফেরতের জন্য দেওয়া চেকও জাল বলে অভিযোগ। প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের অভিযোগ, ২০২২ সালে আসানসোলের সাঁকতোড়িয়ার বাসিন্দা জয়দেব বাউরি, তন্ময় বাউরি এবং অন্ডালের দক্ষিণখণ্ড এলাকার এক বাসিন্দা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁদের দাবি ছিল, খাদ্য দপ্তরে প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল এবং আবগারি দপ্তরে তাঁর ভাই সুপ্রিয় মণ্ডলের চাকরি নিশ্চিত করা হবে। সেই বিশ্বাসেই ধাপে ধাপে মোট ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগকারী জানান, চাকরির প্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তাঁকে কলকাতার ধর্মতলায় খাদ্য দপ্তরের একটি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সরকারি নিয়োগের আদলে প্রশিক্ষণ, নথি যাচাই, ইন্টারভিউ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্রও তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে তাঁর ভাইকেও আবগারি দপ্তরের চাকরির জন্য একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল জানতে পারেন, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, প্রশিক্ষণের নথি-সহ সমস্ত কাগজপত্রই ভুয়ো!

অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবি জানালে অভিযুক্তরা প্রথমে নানা অজুহাত দিতে থাকে। পরে সাড়ে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হলেও ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়ে জানা যায় সেটিও জাল। প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের অভিযোগ, দক্ষিণখণ্ডের ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে টাকা ফেরতের দাবি জানাতে গেলে এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তাঁকে হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার যোগ থাকতে পারে। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। অন্ডালের বিজেপি নেতা রাখালচন্দ্র দাস বলেন, "ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল শুধু সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের নয়, নিজেদের দলের কর্মী-সমর্থকদেরও প্রতারণার শিকার করেছে। এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement