গড়িয়া পার্লার হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। জানা যাচ্ছে, ফেসবুকে আলাপ থেকে প্রেম! প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়েছিলেন বধূ। মাসদুয়েক আগে আবার প্রেমিককে ছেড়ে বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে সংসার শুরু করেছিলেন মহিলা। কিন্তু ভিনরাজ্যের প্রেমিকের আক্রোশ যে মাত্রা ছাড়াবে, তা আন্দাজ করতে পারেননি তিনি। প্রতিশোধ নিতে সুদূর হরিয়ানা থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় এসে প্রেমিকার বিউটি পার্লারে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের পর আত্মঘাতী হয়েছেন যুবক।
ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার দুপুরে? দুপুর ১২টা ৫ নাগাদ বাড়ি থেকে বাইকে করে রূপবাণীকে পার্লারে নামিয়ে দিয়ে যান তাঁর স্বামী অনুপকুমার দাস। স্থানীয়রা জানান, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ এক যুবক পার্লারে এসে ঢোকেন। তারপর পার্লারের কাচের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সময় পার্লারের মধ্যেই দুজনের প্রবল তর্কাতর্কি শুরু হয়। পার্লারে কাজ করা মেয়েটি কাজে এসে ভিতরে ঝগড়ার আওয়াজ শুনে পার্লারে ঢুকতে যান। কিন্তু, দরজা বন্ধ দেখে সঙ্গে সঙ্গে অনুপবাবুকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে ফের বেরোন। সঙ্গে ছেলে ও এক আত্মীয়কে নিয়ে আসেন। ততক্ষণে পার্লারের ভিতরে খুন ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা দেখেন, দুজনের দেহ পার্লারের মেঝেতে পড়ে রয়েছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। দিনদুপুরে এমন ঘটনা জানাজানি হতেই লোকজনের ভিড় জমে যায় পার্লারের সামনে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহদুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হরিয়ানার পঙ্কজ নামে এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় রূপবাণীর। ধীরে ধীরে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গেই থাকছিলেন। দু'মাস আগে বাড়িতে ফিরে তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকেই পঙ্কজের সঙ্গে রূপবাণীর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। যার জেরেই এদিনের ঘটনা। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জিতকুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "খুনের খবর পেয়ে এসেছিলাম। এখন শুনছি বিষয়টি মহিলাঘটিত। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে খুন করে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে।"
