রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮টি খণ্ড এবং অপরটি সঞ্চয়িতা। বিধানসভার গ্রন্থাগারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি বই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জিম্মায় রয়েছে। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এখনও ওই বই তিনই ফেরত দেননি বলে অভিযোগ। দ্রুত বই ফেরত না দিলে এবার মমতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়া হবে। এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। মঙ্গলবার সিউড়িতে বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের ১২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই ওই বিতর্কিত বিষয়ে বার্তা দিলেন মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত না দিলে একজন সাধারণ পাঠকের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “উনি বিশিষ্ট জন বলে ওঁর জন্য আলাদা নিয়ম হবে, এমনটা নয়।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সকলের জন্য সমান আইন কার্যকর করার কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বই ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই নীতির ব্যতিক্রম হবে না।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি রাজ্যের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। নিজস্ব চিত্র
শুধু তাই নয়, রাজ্যে বিগত সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই কেনার জন্য বিভিন্ন গ্রন্থাগারকে সরকারি নির্দেশিকা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দলীয় স্বার্থে ওই বই কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “ওসব এপাং ওপাং ঝপাং-এর কোনও মূল্য নেই।” মন্ত্রীর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই তিনি গ্রন্থাগারগুলি থেকে ওই ধরনের বই সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দিনে গ্রন্থাগারগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ রাষ্ট্রবাদী ও জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্বদের লেখা বই এবং তাঁদের ইতিহাসকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান গৌরীশংকর। তাঁর বক্তব্য, গ্রন্থাগারের সংগ্রহে দেশ, ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কিত বইয়ের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
বিধানসভার গ্রন্থাবগারের কর্মীরা মমতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি জানিয়ে দিয়েছেন বইগুলি তাঁর কাছে বা বাড়িতে নেই। রয়েছে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারে। যে দপ্তর কিনা এখন শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। সমস্যা হল, বইগুলি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে থাকলেও খাতায় কলমে সেগুলি ‘ফেরত’ হিসাবে ততক্ষণ গণ্য হবে না যতক্ষণ সেগুলি গ্রন্থাগারে ফিরে না আসছে।
