ত্রিলোচন-দুলাল 'খুনে' দাবি রয়েছে সিবিআইয়ের। 'খুনি'-দেরকে দিতে হবে ফাঁসি। শপথগ্রহণের দিন-ই পুরুলিয়ার বলরামপুরের ত্রিলোচন মাহাতর গ্রাম সুপুরডি ও দুলাল কুমারের গ্রাম ডাভা নতুন সরকারের কাছে এই দাবি রাখে। আর তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসে খুন হওয়া রাজ্যের ৩২১ জন বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থক পরিবারের রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই দীর্ঘ তালিকায় পুরুলিয়ায় বিজেপির শহিদ পরিবারের সংখ্যা রয়েছে ৬টি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণায় শহিদ পরিবারগুলির শুধু স্বস্তির নিঃশ্বাস নয়, খুশিও। পুরুলিয়ার বলরামপুরে ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমার খুনে কেস রি-ওপেন হবে। তা জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা পুরুলিয়া জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বিবেক রাঙ্গা।
ত্রিলোচন মাহাতোর বাবা হাঁড়িরাম মাহাতো বলেন, "ছেলেটাকে যেভাবে গাছে ঝুলিয়ে মেরেছিল, এই কথাটা মনে পড়লে আমার অন্তরটা শুকিয়ে যায়। বিজেপির সরকার যে আমাদের কষ্ট বুঝেছে, তাতে আমরা ভীষণ খুশি। ছেলের মৃত্যুর সেই ৮ বছর পর আজ যেন মনে হচ্ছে স্বাধীনতার স্বাদ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ। অন্ধকারের কূপ থেকে এবার বুকটা ফুলে গিয়েছে।" একই কথা বললেন মৃত দুলাল কুমারের স্ত্রী মণিকা কুমার। তাঁর কথায়, "বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই যেভাবে আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করল, তাতে আজ সত্যিই খুশি লাগছে। ৮ বছরে একটা দিনও আমার ভালোভাবে কাটেনি। আজ একটু ভালো লাগছে।"
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত এই জেলায় ৬ বিজেপি কর্মী-সমর্থক খুন হন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বলরামপুরের আমটাড় গ্রামের বিজেপি কর্মী জগন্নাথ টুডু খুন হন।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত এই জেলায় ৬ বিজেপি কর্মী-সমর্থক খুন হন। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বলরামপুরের আমটাড় গ্রামের বিজেপি কর্মী জগন্নাথ টুডু খুন হন। আর তারপর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের পর ২০১৮ সালের ৩০ মে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় বলরামপুরে সুপুরডি গ্রামের বাসিন্দা ত্রিলোচন কুমারের। তিনদিনের মাথায় ২ জুন বলরামপুরের ডাভা গ্রামে বুথ সভাপতি দুলাল কুমারের একইভাবে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তবে তা হাইটেনশন লাইনে। আড়াই মাস পর জয়পুর ব্লকের ঘাঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন দেখতে পঞ্চায়েতে গিয়েছিলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা বিজেপির দুই সমর্থক নিরঞ্জন গোপ ও দামোদর মণ্ডল।
এই ৬ শহিদ পরিবারের সকলেই একেবারে প্রান্তিক মানুষজন। নিরঞ্জন গোপ ও দামোদর মণ্ডল দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তেমনই বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর পরিবারের আয় হত সামান্য চাষাবাদ ও প্রাণীপালন থেকে।
বোর্ড গঠনকে ঘিরে ঝামেলায় পুলিশের গুলিতে মারা যান ওই দুই বিজেপি সমর্থক। ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট ওই দুই বিজেপি সমর্থকের মৃত্যুতে উত্তাল হয় রাজ্য। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে যেদিন মনোনয়ন জমা করতে যাবেন বর্তমানে পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। সেদিনই মৃতদেহ উদ্ধার হয় বিজেপি কর্মী, আড়শার সেনাবনার বাসিন্দা শিশুপাল সহিসের। ছৌ নাচ দেখতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। উদ্ধার হয় তার রক্তাক্ত মৃতদেহ।
এই ৬ শহিদ পরিবারের সকলেই একেবারে প্রান্তিক মানুষজন। নিরঞ্জন গোপ ও দামোদর মণ্ডল দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তেমনই বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর পরিবারের আয় হত সামান্য চাষাবাদ ও প্রাণীপালন থেকে। একইভাবে ডাভা গ্রামের দুলাল কুমারের মুদি দোকান থেকে সংসার চলত। আর শিশুপাল সহিসের দিনমজুর ছাড়া আর আয়ের কোনও পথ ছিল না। নিরঞ্জন গোপ, দামোদর মণ্ডল বাদ দিয়ে এরা সবাই ছিল দক্ষ সংগঠক। এদের মৃত্যুর বিনিময়ে যেন পরিবর্তন এসেছে। রাজ্যে পালাবদলে এমন কথা-ই
বলছে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি।
