সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নজিরবিহীন সংঘাত। বলা যায় একেবারে সম্মুখসমরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। চলছে চাপানউতোর। বিজ্ঞপ্তি ও পালটা চিঠির পালা। আর এ নিয়েই এবার মুখ খুললেন বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি। জানালেন, রাজ্যে কোনও অশান্তি হলে রাজ্যপাল নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।
[ রাজ্যপাল ক্যাডারসুলভ আচরণ করছেন, অভিযোগ পার্থর ]
গতকালই নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, সাম্প্রতিক এক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল যেভাবে কথা বলছেন তাতে মনে হচ্ছে, যেন বিজেপির কোনও ব্লক সভাপতি কথা বলছেন। রাজনৈতিক কেরিয়ারে যে তিনি এমন অপমানের মুখোমুখি হননি, এমনটাও জানান। এরপর পাল্টা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। বুধবার সকালে সেই একই অভিযোগ জানিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, রাজ্যপাল ক্যাডারসুলভ আচরণ করছেন। বিজেপির উসকানিতেই এই পরিস্থিতি বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এবার এ নিয়ে পালটা জবাব দিয়ে নাকভি বলেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিক পদে আসীন। রাজ্যে যদি কোনও অশান্তি ছড়ায়, তিনি তো নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না। কেন্দ্রের কাছে তাঁকে পুরো পরিস্থিতি জানাতে হয়। শাসকদলকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যপালের সঙ্গে ঝগড়া করতে যে ক্ষমতা ব্যয় করছে সরকার, তার কুড়ি শতাংশ ব্যয় করলে রাজ্যের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসত।
[ আরএসএসের শাখা হয়ে উঠেছে রাজভবন, বিস্ফোরক অভিযোগ ডেরেকের ]
ইতিমধ্যে রাজ্যপালের অপসারণও দাবি করেছে তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পর, মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে যেভাবে কথা বলেন রাজ্যপাল তাতে বেদনাহত হন তিনি। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন তো বলেইছেন, রাজভবন ক্রমশ আরএসএস-এর শাখা সংগঠন হয়ে উঠছে। রাজভবনের যে বিজেপির আস্তানা হওযা উচিত নয়, এমনটাই দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরও। একাধিক অবিযোগের প্রেক্ষিতে এবার রাজ্যপালের হয়ে মুখ খুললেন নাকভি। কিন্তু খোদ রাজ্যপাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যা বলার বলেছেন। তারপর কেন বিজেপি নেতা এ বিষয়ে সরব হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
The post অশান্তি হলে রাজ্যপাল নীরব দর্শক হতে পারেন না, তোপ নাকভির appeared first on Sangbad Pratidin.
