কেউ কর্মসূত্রে গিয়েছেন। কেউ বেড়াতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সঙ্কটে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার বহু মানুষ। কীভাবে দেশে ফিরবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। দুশ্চিন্তার প্রহর গুনছেন পরিজনরা। দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে কেউ আবার ফেসবুকে কাঁদতে কাঁদতে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
কুয়েত, তুরস্ক, দুবাই, বাহরিনে থাকা ঘরের ছেলেরা ঘরে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও বন্ধ উড়ান। কেউ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। কেউ আবার প্রাণ হাতে নিয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। রাতের ঘুম উড়েছে পরিবারের লোকজনের। পূর্ব বর্ধমানের কালনার নিভুজি কলবাড়ি এলাকার ২৮ বছর বয়সী মামন শেখ রাঁধুনির কাজ করতে চার বছর আগে কুয়েতে যান। কাজকর্ম ভাল চললেও হঠাৎই যুদ্ধ আবহে আতঙ্কিত তিনি।
মামন যেখানে থাকেন তার থেকে ৬ কিলোমিটর দূরে গতকাল রাতেই হয়েছে ড্রোন হামলা। বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না তাঁরা। একপ্রকার গৃহবন্দি তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা। বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকায় কোনওভাবেই দেশে ফিরতে পারছেন না। তাঁরই খুড়তুতো ভাই সোহেল শেখ সোনার কারিগরের কাজে শারজায় থাকেন। সেখানেও একই পরিস্থিতি।
ভিডিও কলে সোমবার বিকাল ৫ টা নাগাদ আগের দিন রাতে ঘটা ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্বয়ং সোহেল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "কোনওরকমে রাতে প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। আমরা এখন বাড়ি ফিরতে চাই।" পরিবারের লোকজনের দাবি সরকার অবিলম্বে তাদের ঘরের ছেলেদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক।
মধ্যে প্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাজাখস্তানে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন কয়েকজন বাঙালি পর্যটক। তারমধ্যে রয়েছেন বর্ধমানের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মল্লিক। সোমবার কাজাখস্তানের হোটেল রুম থেকে তার একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেশে ফিরে আসার জন্য কাতর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারের সাহায্য চেয়ে কাতর আর্জি জানিয়েছেন বিশ্বজিৎবাবু। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, "ঘুম ভাঙে একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে। আরব দেশ গুলোতে যুদ্ধের ঘনঘটা। কি ভাবে দেশে ফিরব জানি না। আগামীকাল উজবেকিস্থান যাব। ওখানেও নিরাপদ থাকব। কিন্তু সেখান থেকে কীভাবে ফিরব সেটাই চিন্তা।"
ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপর দিয়ে তাঁদের বিমান ফেরার কথা। কিন্তু সেখানে পরিষেবা বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। না হলে তাঁদের সেখান থেকে ইওরোপ হয়ে রাশিয়া, চায়না, সিঙ্গাপুর হয়ে দেশে ফিরতে হবে। এতটা ট্রাভেল করে ফেরাটা বিশাল ব্যয়সাপেক্ষ। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের কছে আবেদন করেছেন নিরাপদে দেশে ফেরানোর। ঘরে ফেরানোর।
