ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ। আর্থিক অনিয়ম থেকে পুরবোর্ড পরিচালনায় বেনিয়ম! স্বজনপোষণ-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। অভিযোগ তোলায় তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাসকে শাসানি, চোখ রাঙানি, এমনকী খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এবার সেই টাকি পুরসভার পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
টাকি পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদুৎ দাস। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালে চার বছরের অডিটে একাধিক বেনিয়ম ধরা পড়েছে। কাউন্সিলরের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, ওমর ফারুক গাজির দাবি, প্রবীর চট্টোপাধ্যায় নামে 'লোয়ার ডিভিশন ক্লার্কে'র অ্যাকাউন্টে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা এসেছে। সেই সময় পুরসভার বড়বাবুর পদে অন্য একজন থাকার পরও প্রবীরবাবুর অ্যাকাউন্টে নিয়ম বর্হিভূতভাবে টাকা আসে।
পাশাপাশি ইছামতি নদীর বুকে ভাসমান রেস্তোরাঁ করতে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। 'সোনার বাংলা' হোটেলের জন্য দেওয়া জমির লিজেও বেনিয়ম হয়েছে বলে দাবি। বাৎসরিক মাত্র ১২০ টাকা হারে লিজ দেওয়া হয়ছে বলে দাবি। বোর্ড অফ কাউন্সিলয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়াই এই লিজ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। ইটভাটা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। মাত্র ৪২০ টাকা লিজে 'ইট ভাটা'র ব্যবসায় ৪ বিঘে জমি পেয়েছে 'গোপাল ব্রিগ ফ্রিল্ড'। সরকারি জমির অপব্যবহার করে এই সব করা হচ্ছে বলে দাবি করে বলা হয়েছে পুরপ্রধান ঘুরপথে প্রচুর টাকা কাটমানি নিচ্ছেন। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলার শুনানি হবে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে।
এ দিকে কাউন্সিলরের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিযোগকারী কাউন্সিলর প্রদুৎ। সোমবারই ই-মেইল মারফত ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। বসিরহাটের মহকুমা শাসকের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
