দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: বাবা-মাকে উচ্ছেদ করে বাড়ির দখল নিয়ে তাতে বহুতল বানানোর চেষ্টা৷ কিন্তু সেই চেষ্টায় বাধা পেয়ে দলবল নিয়ে বাবা-মাকে বেধড়ক মারধর গুণধর ছেলের৷ চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রহৃত বাবা। পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ গুণধর ছেলে ও তার শ্যালককে গ্রেপ্তার করেছে৷
[সম্পত্তির লোভে মাকে মারধর গুণধর ছেলের, পুলিশের দ্বারস্থ বৃদ্ধা]
হুগলির পাণ্ডুয়ার থৈপাড়ার বাসিন্দা শম্ভুচন্দ্র দাস ও গঙ্গা দাসের দুই ছেলে। বড় ছে্লে কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। ছোট ছেলে রঞ্জিত থৈপাড়ায় বাবার বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকত। অভিযোগ, ৬ মাস আগে ছোট ছেলে রঞ্জিত তার শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে বাবা-মাকে মারধর করে৷ বাড়ি থেকে বেরও করে দেওয়া হয় তাঁদের। ছেলের অত্যাচারে ৬ মাস ধরে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাটান ওই দম্পতি। কিন্তু এভাবে কতদিন সম্ভব? তাই বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সকালে থৈপাড়ায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন এই দম্পতি। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও তাঁরা বুঝতে পারেননি যে বাড়ি ফিরে আসার ফল এতটা মারাত্মক হতে পারে। গঙ্গা দেবীর অভিযোগ, বুধবার ঘরে কাজ করার সময় ছেলে, ছেলের বৌ ও শ্যালক তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে তাঁর চুলের মুঠি ধরে এলোপাথারি কিল চড় ঘুসি মারতে থাকে। স্ত্রীকে মারধর করতে দেখে স্বামী শম্ভুচন্দ্র তাঁকে বাঁচাতে আসেন৷ মাকে ছেড়ে বাবাকেও মারধর করতে শুরু করে গুণধর ছেলে৷ স্বামীর নাক ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে, চোয়ালের হাড় ভেঙে যায়। গঙ্গা দেবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে পালিয়ে যায় ছেলে রঞ্জিত৷
[বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, নির্যাতিতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার যুবক]
প্রতিবেশীদের তৎপরতায় গুরুতর জখম অবস্থায় বাবা শম্ভুচন্দ্র দাসকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভরতি করা হয়। এই ঘটনায় মা গঙ্গা দাস তাঁর ছোট ছেলে রঞ্জিত দাস, তার স্ত্রী দীপান্বিতা ও ছেলের শ্যালক শিবনাথ দাসের বিরুদ্ধে পাণ্ডুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ছেলে রঞ্জিত দাস ও তার শালা শিবনাথ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷
