প্রোমোটার খুনের (Howrah Shootout) প্রতিবাদে বিজেপির বিক্ষোভে (BJP Protest) হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার সামনে তুলকালাম। ব্যারিকেড ভেঙে থানার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কর্মী-সমর্থকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইক হাতে বিক্ষোভকারীদের পিছু হঠার আর্জি পুলিশের। এদিকে, এই ঘটনায় এখনও ফেরার মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দুই অভিযুক্তের সঙ্গে শাসক শিবিরের যোগসাজশ রয়েছে। সে কারণেই সম্ভবত এখনও দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেই অভিযোগ বিজেপির।
নিহত প্রোমোটার শফিকের বিরুদ্ধেও উঠছে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শফিক এলাকায় প্রোমোটারি করে। প্রোমোটিং সংক্রান্ত কোনও বিবাদের জেরেই এলাকার দুই দুষ্কৃতী হারুন খান ও রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত তাদের পরিচিত মহম্মদ শফিককে গুলি করে খুন করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত হারুন খান উত্তর হাওড়ায় বসবাস করে। তবে আদতে সে আফগানিস্তানের নাগরিক। সে বছরখানেক আগে অসামাজিক কাজকর্মের জন্য জেল খাটে। অন্যদিকে আরেক অভিযুক্ত রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিত আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি। হারুনের গ্যাংয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করত। আগ্নেয়াস্ত্র কারবারি হিসেবে রোহিতও জেল খেটেছে। প্রত্যেকের নামেই গোলাবাড়ি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু তাই নিহত প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের নামেও একাধিক মামলা রয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কালো পোশাকে হারুন এবং গোলাপি পোশাকে রোহিত। নিজস্ব চিত্র
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহম্মদ শফিকও একজন দুষ্কৃতী। বছর চারেক আগে গোলাবাড়ির কিংস লেনে একটি গুলি চালনার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ শফিক। ওই ঘটনায় জেলও খেটেছে শফিক। উত্তর হাওড়ার পিলখানা এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী টিপু সুলতান ও আকাশ সিংয়ের গ্যাংয়ের সদস্য ছিল মহম্মদ শফিক। উত্তর হাওড়ারই বামনগাছিতে একটি ঘটনায় পুলিশকে লক্ষ্য করে টিপু সুলতানের গ্যাং গুলি চালিয়েছিল। সেই ঘটনাতেও নাম রয়েছে মৃত মহম্মদ শফিকের। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বছর খানেক আগে বছর বত্রিশের শফিকের বিয়ে হয়। সম্প্রতি সে প্রোমোটিংয়ের পাশাপাশি টিপু সুলতানের গ্যাংয়ের হয়ে এলাকা দখলের কাজ করছিল। বুধবার ভোরে মহম্মদ শফিককে যারা গুলি করে সেই দুই দুষ্কৃতী হারুন খান ও রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতও পিলখানা এলাকার অপর একটি দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের সদস্য। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই দুই দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের মধ্যে লড়াইতে খুন হতে হয়েছে মহম্মদ শফিককে। ঘটনার তদন্তে নেমে দুই গ্যাংয়ের সদস্যদেরই খুঁজছে পুলিশ।
