এক ঘরে। এক বিছানায় দু'জনে। আর তাতেই ক্রমশ তীব্র হয় আরও কাছাকাছি, আরও পাশাপাশি আসার ইচ্ছা। নতুন নতুন বিয়ের পর একে অপরের শরীরে যেন মিশে থাকেন দম্পতি। তবে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে অন্য কথা। যা নিঃসন্দেহে বেশ উদ্বেগের। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমশ বাড়ছে 'যৌনতাহীন দাম্পত্য'। সন্তানধারণের গড় হারও কমছে কিছুটা। কেন ক্রমশ দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে যৌনতায় অনীহা, কারণ রয়েছে একাধিক।
প্রথমত, যৌনতায় মেতে ওঠার জন্য শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত আবশ্যক। দুই একসঙ্গে সায় না দিলে শরীরী খেলার ইচ্ছা ক্রমশ কমছে। তবে এই সমস্যা দীর্ঘদিন চললে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক মানুষের যৌনচাহিদা সমান নয়। একদিনে কেউ বেশিবার শরীরী খেলায় মাততে চান। আবার কারও ক্ষেত্রে সে ইচ্ছা অত্যন্ত কম। আর দু'জনের ইচ্ছার তাল না মেলার ফলে অনেক সময় দেখা যায় সপ্তাহে হয়তো একবারও বিছানায় ঝড় তুলতে পারছেন না দম্পতিরা।
তৃতীয়ত, দাম্পত্য যৌনতায় বহুক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সন্তান। সাধারণত সন্তানধারণের পর মহিলাদের যৌন আগ্রহ কমে যায় বেশ খানিকটা। সন্তানপালন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যান মহিলারা। তার ফলে ক্লান্ত শরীর আর যৌন চাহিদা মেটানো কিংবা যৌন আকর্ষণ অনুভব কোনওটাই করে না। তাই রাতের পর রাত এক বিছানায় থাকলেও কাছাকাছি আসা হয় না বহু স্বামী-স্ত্রীর।
চতুর্থত, যৌন অনীহার মূল কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ। বর্তমানে ক্রমশ বাড়ছে কাজের চাপ। আর তার সঙ্গে মানসিক চিন্তা। দু'য়ে মিলে আর বিছানায় ঝড় তোলা সম্ভব হচ্ছে না দম্পতির।
পঞ্চমত, দম্পতিদের মধ্যে না বলা অভিমান কিংবা মতানৈক্য অনেক সময় পাহাড়ের চেহারা নেয়। তার ফলে একঘরে থাকলেও এক বিছানায় ঝড় ওঠে না। পরিবর্তে একই ঘরে গুমরে মরে দু'টি মানুষ।
বর্তমানে সম্পর্কের আয়ু যেন ক্রমশ কমছে। বিয়ে ভাঙা আর খুব কঠিন ব্যাপার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'যৌনতাহীন দাম্পত্যে'র ফলে অবনতি হচ্ছে সম্পর্কের। দাম্পত্য উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য শরীরী খেলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যৌনতা না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্ক চিড় ধরতে থাকে। তা বহুক্ষেত্রে ভাঙনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই শারীরিক মিলনে অনীহা দেখা দিলে অবশ্যই সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যান। মনে রাখবেন, সম্পর্ক গড়তে সময় লেগে যায় অনেক। সম্পর্ক ভাঙা মুহূর্তে খেলামাত্র। তাই একে অপরের পাশে থাকুন। তাতেই সম্পর্ক হয়ে উঠবে আরও রঙিন ও সুন্দর।
