shono
Advertisement

Breaking News

Howrah

রক্ষিতার বাড়িতে বসে খুনের ছক! হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটর হত্যায় পরতে পরতে রহস্য

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গোলাবাড়িতে হারুনের রক্ষিতার বাড়িতে বসে ধৃত ৩ জন ও মূল অভিযুক্ত ২ জন মোট ৫ জন মিলে মহম্মদ শফিককে খুন করার ছক কষে।
Published By: Sayani SenPosted: 09:31 PM Feb 26, 2026Updated: 09:32 PM Feb 26, 2026

পিলখানায় খুনের ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত তিন জনকে বুধবার গভীর রাতে কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার করে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। তবে ওই রাতে ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত হারুন খান বা রাফাকাত হোসেন ছিলেন না। যে হারুন ও রাফাকাত ওরফে রোহিত বুধবার ভোরে মহম্মদ শফিককে গুলি চালিয়ে খুন করে। সিসিটিভি ফুটেজে ২ জনকে খুন করতে দেখা যায়। সেই মূল অভিযুক্ত ২ জনকে খুঁজতে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, যে তিন জনকে বুধবার রাতে জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয় তারা হল মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না ও দিলদার হোসেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গুলি চালিয়ে খুন হারুন ও রোহিত করলেও খুনের ছক কষা কিংবা খুনের ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত ধৃত তিনজন। ধৃত ৩ জন খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ২ জনকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করে।

Advertisement

হাওড়ার পিলখানার প্রোমোটার খুনের সিসিটিভি ফুটেজ। নিজস্ব চিত্র

বুধবার রাতে গ্রেপ্তারের পর ধৃত তিন জনকে বৃহস্পতিবার হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক গৈরিক রায় ধৃতদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃত তিন জনের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মোবাইল ট্র্যাক করেই ধৃত তিন জনকে ধরে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গোলাবাড়িতে হারুনের রক্ষিতার বাড়িতে বসে ধৃত ৩ জন ও মূল অভিযুক্ত ২ জন মোট ৫ জন মিলে মহম্মদ শফিককে খুন করার ছক কষে। আর সেই পরিকল্পনা মতোই ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভোরে শফিকের বাড়ির সামনে তাঁকে গুলি করে খুন করে হারুন ও রোহিত।

কিন্তু কী কারণে এই খুন? পুলিশ সূত্রে খবর, হারুন ও তার দলবল শফিকের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। তা না দেওয়াতেই তারা শফিককে খুন করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে শফিককে খুন করতে ৫ জনই গিয়েছিল। একটি গাড়ি নিয়ে পিলখানা সেকেন্ড বাই লেনের গলির বাইরে দাঁড়িয়েছিল ধৃত মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না ও দিলদার হোসেন। আর গলির ভিতরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শফিককে খুন করতে গিয়েছিলো হারুন ও রোহিত। বাইরে ধৃত তিনজন পাহাড়ায় ছিল। গুলি চালিয়ে খুনের পরই হারুন ও রোহিত গলি দিয়ে ছুটে পিলখানায় জিটি রোডের উপর চলে আসে। বাকি ৩ জনের সঙ্গে ওই ২ জন গাড়িটিতে উঠে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

প্রোমোটার খুনের দুই মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত। নিজস্ব চিত্র

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শফিককে খুনের পর কলকাতার জোড়াসাঁকোতে মহম্মদ বিল্লালের বাড়িতে ওঠে ৫ জন। ওই বাড়ি থেকে হারুন ও রোহিত পালিয়ে গেলেও বিল্লালের বাড়িতে থেকে যায় মুন্না ও দিলদার। এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার হাওড়ার পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া বলেন, ‘‘ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তদন্ত চলছে। ঠিক কী কারণে খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ হাওড়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক এই প্রসঙ্গে জানান, ‘‘৫ জনই ছক করে শফিককে খুন করে। ৫ জনের বিরুদ্ধেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’

এদিকে, এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার পিলখানায় গিয়ে দেখা গেল এলাকার পরিবেশ থমথমে। তবে রমজান মাস হিসেবে এলাকার বাসিন্দারা বাজার দোকান করছেন। পাশাপাশি পিলখানা এলাকায় হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে প্রচুর পুলিশ ও র‍্যাফ মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে এদিন এই খুনের ঘটনার প্রতিবাদে গোলাবাড়ি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। বিজেপির উত্তর হাওড়ার নেতা উমেশ রাই বলেন, ‘‘আমরা দোষীদের দ্রুত উপযুক্ত সাজা চাই। এই খুনের পিছনে আসল মাথাদের ধরতে হবে।’’

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement