সুপরিকল্পিত ভাবে উত্তরকন্যা অভিযানে অশান্তি ছড়ালো বিজেপি। আদিবাসী জনজাতিদের সামনে রেখে তারাই আন্দোলনের নামে একপ্রকার গুন্ডামি চালালো। তাদের মিছিল আটকে দিতেই জলের বোতল, পাথর মারা শুরু করে পুলিশকে লক্ষ্য করে। শুধু তাই নয়, রাস্তায় টায়ারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এরপর পুলিশ নিজেদের বাঁচাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জলকামান ও পরে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়, দুর্গা মুর্মুর বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ। এদিন বিধায়ক দুর্গা মুর্মু নিজে তির ধনুক নিয়ে মিছিল করেন। মিছিলে সকলের হাতেই ছিল তির ধনুক, তলোয়ার। এদিকে এই আন্দোলনের তীব্র নিন্দা করেছে মেয়র গৌতম দেব।
২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জালাস নিজামতারা গ্রাম পঞ্চায়েতে এক গর্ভবতী আদিবাসী মহিলার উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে এক যুবকদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। মহিলার উপর আক্রমণের পর ওই মহিলা ৭ জানুয়ারি এক নবজাতকের জন্ম দেয়। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পরেই ওই নবজাতকের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে আদিবাসী সমাজ। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয় জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের পক্ষে।
এদিন জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের ওই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয় তিনবাত্তি মোর এলাকায়। নামানো হয় র্যাফ। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান। জলপাইমোড় থেকে নৌকাঘাট মোড় হয়ে আন্দোলনকারীরা মিছিল করে তিনবাত্তি মোড়ে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় আন্দোলনকারীদের। পুলিশের ব্যারিকেডে আন্দোলনকারীদের মিছিল আটকে যায়। এরপর আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে যায়। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা জলের বোতল ও পাথর ছুড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ।
এমনকী রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি। পালটা পরিস্থিতি সামাল দিতে জল কামান চালায় পুলিশ। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। ঘটনায় প্রায় আট থেকে দশজন আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজিয়ে রয়েছে। ঘন্টাখানেক পর আন্দোলনকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিনের ওই মিছিলে পা মেলাতে দেখা যায় ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দূর্গা মুর্মু, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়কা শিখা চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যদের। দূর্গা মুর্মু বলেন, "আমি একজন আদিবাসী বিধায়ক। একটা জমি দখলকে কেন্দ্র করে যেভাবে এক আদিবাসী জনজাতির গর্ভবতী মহিলার উপর আক্রমণ করা হয়েছে আমরা তার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন করছি। ওই মহিলার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ কোন পদক্ষেপ করেনি। আমরা এর তীব্র বিরোধীতা জানাই।" শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ওই ঘটনার দোষী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা চাই দোষীদের চরম শাস্তি।"
অন্যদিকে এভাবে হিংসাত্মক আন্দোলনের তীব্র নিন্দা করেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটির সদস্য তথা মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, "আন্দোলনের নামে হিংসা ছড়ানো হয়েছে। পুলিশকে মারা হয়েছে বোতল, পাথর ছোঁড়া হয়েছে। আদিবাসীদের প্রতি আমাদের সরকার যথেষ্ট কাজ করেছে। ওদের ভুল বুঝিয়ে এই কান্ড ঘটালো বিজেপি। যে জমি নিয়ে বিবাদ হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ওর ইচ্ছাকৃত অশান্তি ছড়াচ্ছে।"
