চাকরি দেওয়ার নামে মালদহে (Malda) কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। অভিযোগের তির বেসরকারি একটি নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষ নাজিউল সেখ ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কাজ দেওয়ার নামে প্রায় সাড়ে চার হাজার চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা করে নেয় ওই নার্সিংহোম। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও কোনও চাকরি দেওয়া হয়নি। এমনকী টাকা ফেরতের দাবি জানানো হলেও তা দেওয়া হয়নি। উলটে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকী এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তা নেওয়া হয়নি বলে দাবি। এরপরেই এই ঘটনায় জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতারিতরা। যদিও এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কের পাশে মালদহ মিশন হাসপাতাল নামে একটি নার্সিং হোম তৈরি হয় গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে। এরপরেই বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে কর্মসংস্থানে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। নার্সিং, গ্রুপ ডি, টেকনিশিয়ান, সিকিউরিটি-সহ বিভিন্ন পোষ্টে নেওয়া হবে বলে সেই বিঞ্জাপন দেওয়া হয়েছিল। শূন্যপদ ছিল প্রায় সাড়ে চারহাজার। বিপুল এই কর্মসংস্থানের খবর পেতেই বহু প্রার্থী সেখানে আবেদন জানান। শুধু মালদহ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শূন্যপদে আবেদন জানানো হয়। সেই মতো একাধিক প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকাও হয়। প্রতারিতদের অভিযোগ, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার পর প্রায় সাড়ে চার হাজার বেকার যুবক যুবতীর কাছ তোলা হয় এই টাকা। যা হিসেব করলে দেখা যাবে কয়েক কোটি টাকা তোলা হয়েছিল!
এখানেই শেষ নয়! ড্রেসের জন্য ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি কারো কারো কাছ থেকে দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আরও টাকা চাওয়া হয় বলেও দাবি প্রতারিতদের। সেই মতো কারো কাছ থেকে ১০ হাজার, কারো কাছে ১৫, আবার কারো কাছে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হয় বলেও দাবি। শর্ত ছিল, আগামী দুই মাসের মধ্যে তাঁদের কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু দুই মাস থেকে এক বছর পার হয়ে গেলেও কাউকেই কাজে যোগ দিতে বলা হয়নি। এরপরেই টনক নড়ে চাকরীপ্রার্থীদের।
এরপরেই টাকা ফেরতের দাবিতে নার্সিংহোমের দ্বারস্থ হলে কোনও পাত্তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ প্রতারিতদের। এমনকী হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এরপরেই এই ঘটনায় কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো যান প্রতারিতরা। অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। নেওয়া হয়নি কোনও অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতারিত যুবকযুবতীরা। জানা গিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক।
