shono
Advertisement
Katwa

শর্ট সার্কিট নয়, আগুন লাগানো হয়েছে কামরায়! কাটোয়া-আজিমগঞ্জ ট্রেনে কি তবে নাশকতার ছক?

কাটোয়া রেল স্টেশনে ট্রেনের কামরায় আগুন লাগার ঘটনা নিতান্তই দুর্ঘটনা নয়। আগেই সেই কথা মনে করেছিলেন রেলের আধিকারিকরা। তদন্তের জন্য এবার ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল। পুড়ে যাওয়া কামরা থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
Published By: Suhrid DasPosted: 02:51 PM Feb 16, 2026Updated: 02:53 PM Feb 16, 2026

কাটোয়া রেল স্টেশনে ট্রেনের কামরায় আগুন লাগার ঘটনা নিতান্তই দুর্ঘটনা নয়। আগেই সেই কথা মনে করেছিলেন রেলের আধিকারিকরা। তদন্তের জন্য এবার ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল। পুড়ে যাওয়া কামরা থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিন চার সদ্যসের ওই ফরেনসিক দল স্টেশন চত্বরও ঘোরেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রেলের আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, কোনও শর্ট সার্কিট নয়, আগুন লাগানো হয়েছিল ট্রেনের কামরার ভিতরে! তাহলে কি নাশকতার ছক কষা হয়েছিল? সেই আশঙ্কাই আরও জোরালো হচ্ছে?

Advertisement

গতকাল রবিবার ভোরবেলা আগুন লেগেছিল কাটোয়া-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেনে। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল সেটি। দেখা যায় দাউদাউ করে ট্রেনের একটি কামরা জ্বলছে। দমকল কর্মীরা বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও ততক্ষণে আগুনে ভস্মীভূত ওই কামরা। দমকল কর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে ওই আগুন লেগেছিল। যদিও রেলের তরফে ওই কথা মানতে চাওয়া হয়নি। কেউ ইচ্ছা করে, পরিকল্পনা করে ওই আগুন লাগিয়েছে। সেই আশঙ্কার কথা মনে করছিলেন আধিকারিকদের একাংশ। তাহলে কি ঘটনার সঙ্গে নাশকতা জড়িয়ে আছে? সেই প্রশ্ন ওঠে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন," আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে সেই ধরনের গতিবিধি আমাদের নজরে এসেছে।"

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি বলেন," আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে সেই ধরনের গতিবিধি আমাদের নজরে এসেছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।" রেল সূত্রে জানা গিয়েছে কাটোয়া রেল স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে একটি ফাঁকা ট্রেন দাঁড়িয়েছিল। ট্রেনটি কাটোয়া আজিমগঞ্জ লাইনে আজিমগঞ্জের দিকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৬-০৫ নাগাদ। তার আগেই ওই ফাঁকা ট্রেনের মাঝামাঝি অংশের একটি বগি হঠাৎ দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা যায়।

পুড়ে যাওয়া ট্রেনের কামরা। নিজস্ব চিত্র

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ভোরের ট্রেনের যাত্রীদের জন্য দু'চারজন রেল হকার কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাঁদেরই প্রথম নজরে পড়ে। তাঁরা রেলের কর্মী ও রেলপুলিশকে জানান। রেলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে দমকলবিভাগে খবর দেন। কাটোয়া দমকল অফিস থেকে দুটি ইঞ্জিন আসে। পাশাপাশি আগুনে জ্বলতে থাকা সামনের ও পিছনের বগিগুলিকে আলাদা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে আর অন্যান্য বগিতে আগুন ছড়াতে পারেনি।

প্রাথমিকভাবে ফরেনসিক দলের সন্দেহ, ট্রেনের ভিতরে আগুন জ্বালানো হয়েছিল।সিট থেকে প্রথম আগুন ছড়ায়। তারপর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বৈদ্যুতিক পাখা ব্লাস্ট করে। গোটা কামরায় আগুন দাউদাউ করে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হবে। সেই কথাও এদিন জানানো হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement