জয় নিয়ে সংশয়? তাও আবার মৌসম বেনজির নুরের! যাঁকে নিয়ে আশা করেছিলেন কংগ্রেস নেতারা, তাঁকে নিয়েই এখন বিড়ম্বনা। যা নিয়ে কানাঘুষো শুরু হয়েছে মালদহের কংগ্রেস শিবিরে। একটি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে যদি হেরে যান, তাই জোড়া আসনে দাঁড় করানোটাই শ্রেয়। এমন ভাবনা থেকেই মৌসমকে মালদহের দু'টি আসনে প্রার্থী করার প্রস্তাব প্রদেশ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছে জেলা কংগ্রেস কমিটি বলে সূত্রের খবর। প্রদেশ এবং দিল্লির হাইকমান্ডের অনুমোদন মিললেই মালদহের সুজাপুর এবং মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হবেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। জোড়া আসনেই প্রার্থী হতে চলেছেন তিনি।
কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল, তারপর ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে পরপর দু'বার দলবদল। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মৌসমের আসন বাছাই নিয়ে শঙ্কায় জেলার কংগ্রেস শিবির। ঘুরেফিরে তাঁদের সেই একটাই প্রশ্ন, এই দলবদলেই কি তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ হঠাৎ করে ঝাপসা হয়ে গিয়েছে? প্রয়াত এবিএ গনি খান চৌধুরির ভাগনি মৌসম বেনজির নুরকে নিয়ে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মালদহের কোতোয়ালি বাড়ির অন্দরেও। এমনিতেই প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরির জেলা মালদহে কংগ্রেসের দুর্দিন চলছে। পাশে সিপিএম থাকলে হয়তো-বা বিধানসভা নির্বাচনে কিছু বামপন্থী ভোট ঝুলিতে ঢুকত। কিন্তু সেই সঙ্গীরও হাত ছেড়ে দিয়েছে 'হাত' শিবির। একলা চলতে গিয়ে প্রার্থীদের জামানত রক্ষা করতে পারবেন তো?
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের একটি আসনও 'নিশ্চিত' নয় বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এই শঙ্কা খোদ গনি পরিবারের সদস্যদেরও।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মালদহ জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের একটি আসনও 'নিশ্চিত' নয় বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এই শঙ্কা খোদ গনি পরিবারের সদস্যদেরও। জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, মৌসম নুরকে দলে টেনে তাঁর কাঁধে ভর করেই জেলায় কংগ্রেসের পালে ভোটের হাওয়া তুলতে চেয়েছিলেন গনি পরিবারের আর এক সদস্য সাংসদ ইশা খান চৌধুরি। বাবা ডালুবাবুর অসুস্থতার জন্য জেলা কংগ্রেস সভাপতি পদেও রয়েছেন সাংসদ ইশা। কিন্তু এবার যে ভোটের মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে চলেছে এসআইআর। এই আবহে তৃণমূল ও বিজেপি যখন সম্মুখ সমরে, তখন ময়দানে সেভাবে নামতেই পারেননি ইশা-মৌসমরা বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
মৌসম নুরকে দলে টেনে এনে কার্যত নিজেদেরই বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে জেলার কংগ্রেস নেতাদের একাংশ বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করছে। কোতোয়ালিতেই প্রশ্ন ওঠে, দলের এই দুর্দিনে বিধানসভা নির্বাচনে কি জিততে পারবেন মৌসম নুর? জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে কোনও আসনই প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুরের জন্য 'নিরাপদ' নয়। আর এই শঙ্কা থেকেই মৌসমকে মালদহের দু'টি আসনে প্রার্থী করার প্রস্তাব প্রদেশ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব বলে সূত্রের খবর। জেলা কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ ইশা খান চৌধুরি বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। জেলা কংগ্রেস সূত্রে খবর, জেলা থেকে একটি প্রার্থী তালিকা রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠানো হয়েছে। তাতে দু'টি কেন্দ্র থেকে মৌসমকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
