shono
Advertisement

ছোটা ভীমের দাপটেও কাঁকসার রথের মেলায় ‘হুঁকো বুড়ো’র দর ওঠে ১০ টাকা

রথতলার বাসিন্দা সুশান্ত সূত্রধরের দুই পুরুষের ব্যবসা এই পুতুল তৈরি করা৷ The post ছোটা ভীমের দাপটেও কাঁকসার রথের মেলায় ‘হুঁকো বুড়ো’র দর ওঠে ১০ টাকা appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 06:36 PM Jul 14, 2018Updated: 07:06 PM Jul 14, 2018

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ‘হুঁকো বুড়ো’র চাহিদা প্রচুর৷ কিন্তু, রথের মেলার প্রথাগত ‘হুঁকো বুড়ো’ এখন প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে৷ মোটু-পাতলু, ছুটকি কিংবা ছোটা ভীম আসর জাঁকিয়ে বসেছে রথের মেলায় পুতুলের দোকানে৷ মাথা হেলানো পুতুলের চাহিদা আজকের নয়৷ কাঁকসায় রথের মেলায় মূল আকর্ষণই হল এই মাথা হেলানো হুঁকো বুড়ো৷

Advertisement

রথতলার বাসিন্দা সুশান্ত সূত্রধরের দুই পুরুষের ব্যবসা এই পুতুল তৈরি করা৷ সুশান্তবাবুর বাবা শিবশঙ্কর সূত্রধরই এই ‘হুঁকো বুড়ো’ আসল রুপকার৷ শিবশঙ্করবাবু নদীয়াতে মেলায় ঘুরতে ঘুরতে এই ধরনের পুতুলের সন্ধান পান৷ নিজে ছিলেন দক্ষ কারিগর৷ নিজের মতন করে গড়ে তুলেছিলেন আজকের মাথা হেলানো ‘হুঁকো বুড়ো’কে৷ সুশান্তবাবুর পরিবারের সব সদস্যই মেলার এই ক’টা দিন চরম ব্যস্ত থাকেন৷ স্ত্রী চায়না সূত্রধরও স্বামীকে সাধ্যমতো সাহায্য করেন৷ বিয়ের পর থেকেই এই কাজ শিখেছেন তিনি৷ এখন বিভিন্ন পুতুলে রঙের কাজ করেন চায়নাদেবী৷ দশম শ্রেণির ছাত্র ছেলে সুরজিতও এই পেশাকে ভালবেসেই বাবাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন৷ পাকা হাতেই সুরজিতও বাবাকে মূর্তি গড়তে সাহায্য করে৷ বছর বছর কাঁকসা রথতলার মাঠে রথের মেলায় দোকান দিচ্ছেন সুশান্তবাবু তার তিন সদস্যের পরিবারকে নিয়েই৷ আর প্রতিবছরই মেলায় সেরা ‘হুঁকো বুড়ো’৷

[কয়েক শতক পরেও উচ্ছাসে পড়েনি ভাটা, কেমন ছিল মাহেশ-মহিষাদলের রথযাত্রা?]

গত বছর আবহাওয়া প্রতিকুল থাকায় বেচা-কেনা হয়নি৷ ‘হুঁকো বুড়ো’ তৈরি হয়েও মেলাশেষে বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে৷ এবারও প্রায় চার হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ‘হুঁকো বুড়ো’-সহ বিভিন্ন ধরনের পুতুল তৈরি করেছেন সুশান্তবাবু৷ আগে শুধুই মাথা হেলানো ‘হুঁকো বুড়ো’ তৈরি করতেই হিমশিম হয়ে যেতে হত৷ কিন্তু, দিন দিন চাহিদা কমছে বুড়োর৷ বদলে কার্টুন ভিত্তিক পুতুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে৷ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাও শিখতে হয়েছে সুশান্তবাবুকে৷ দুই বছর ধরে একই দর ‘হুঁকো বুড়ো’র৷ দশ টাকা মাত্র৷ কাঁচামালের দাম বাড়লেও ‘হুঁকো বুড়ো’র দর এখনও একই৷ অন্য সময়ে প্রতিমা তৈরি করেন৷ সিমেন্টের ছাঁচে নানাধরনের মডেলও করেন সুশান্তবাবু৷ ঘরেই ওয়ার্কশপ৷ এই বছরের পাঁচটি দুর্গাপ্রতিমা গড়ার বায়না এখনই পেয়ে গিয়েছেন সুশান্তবাবু৷ পেশায় দক্ষতা থাকলে অভাব হয় না৷ এই আপ্ত কথাটি অক্ষরে অক্ষরে মানেন সুশান্তবাবুও৷

কিন্তু, এই পেশা ছেড়ে আর অন্য কিছু ভাবতেই পারেন না তিনি৷ সুশান্তবাবু বলেন, “আর এই বয়সে এসে অন্য কোনও উপায় নেই৷ এই কাজই করে যেতে হবে যতদিন হাত চলবে৷ অভাব থাকলেও সরকারিভাবে সাহায্যেরও আবেদন করিনি৷” ছেলে সুরজিতের এই কাজে আগ্রহ থাকলেও পূর্ব পুরুষের এই ব্যবসা সে ধরে রাখবে কি না তা নিয়েও প্রবল সন্দেহ সুশান্তবাবুর মনে৷ আগামী দিনে কাঁকসার ‘হুঁকো বুড়ো’ হারিয়ে যাবে কিনা তা নির্ভর করছে সুশান্ত সূত্রধরের পরবর্তী প্রজন্মের উপর৷

The post ছোটা ভীমের দাপটেও কাঁকসার রথের মেলায় ‘হুঁকো বুড়ো’র দর ওঠে ১০ টাকা appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার