শ্বশুর বাড়ির পাশের আমবাগান থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গাইঘাটায় (Gaighata)। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে খুনের অভিযোগে মৃত যুবকর স্ত্রীর প্রেমিককে গ্রেফতার করলো পুলিশ৷ পুলিশ জানিয়েছে ধৃতের নাম আনন্দ রায়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গাইঘাটা থানার পুলিশ রাতে অভিযুক্তকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, মৃতের স্ত্রীয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল ধৃত আনন্দের। যোগসাজশ করেই এই খুনের ঘটনা কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ধৃতকে।
মৃত ওই যুবকের নাম চিন্ময় দে। বাড়ি বনগাঁ (Bangaon) এলাকায়। গত কয়েকদিন আগেই শ্বশুর বাড়ির পাশের আমবাগান থেকে চিন্ময়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও মৃতের পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, চিন্ময় দে’র স্ত্রীর সঙ্গে ওই যুবকের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। অশান্তির জেরেই চিন্ময় দে’র স্ত্রী গাইঘাটায় বাপের বাড়ি চলে যান। কয়েক মাস আগে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতেই চিন্ময় গাইঘাটার শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফিরতে পারেননি। এর মধ্যেই শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি আমবাগানে চিন্ময়ের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা৷ খবর যায় পুলিশে। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য।
জানা যায়, দেহ একাধিক ক্ষতের দাগ ছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে খুন করা হয়েছে চিন্ময়কে! মৃতের মা জানান, তাঁর ছেলের শরীরে ক্ষত-বিক্ষত দাগ ছিল। এরপরেই পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ আনা হয় স্ত্রীর প্রেমিকার বিরুদ্ধে৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার আনন্দ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা যায়, ধৃতের বাড়ি বনগাঁ থানার আরএস মাঠ এলাকায়। সেখান থেকেই আনন্দকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মৃতের স্ত্রীয়ের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
