Advertisement

পায়ে হেঁটেই দেশজুড়ে করোনা সচেতনতার প্রচার, প্রশংসা কুড়োচ্ছেন বাংলার প্রৌঢ়

10:23 PM Nov 30, 2020 |

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সংখ্যার নিরিখে বয়স ষাট ছোঁয়ার অপেক্ষায়। কিন্তু প্রাণশক্তি অদম্য। সেই শক্তিকে অবলম্বন করেই সারাভারত প্রচার অভিযানে বাংলার প্রৌঢ়। করোনা ভাইরাস (CoronaVirus) সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করে তুলতেই পায়ে হেঁটে সারা দেশ ঘুরলেন ৫৯ বছরের ঠাকুরদাস শাসমল ওরফে দাসুদা।  

Advertisement

হাওড়ার উদয় নারায়ণপুরের বাসিন্দা ঠাকুরদাস শাসমল। পেশায় দিনমজুর। বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে-বউমা আছে। দুই কন্যা বিবাহিতা। নাতি-নাতনিও রয়েছে। পড়াশোনা বলতে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। কিন্তু তাতে সমাজ চেতনার কোনও অভাব নেই। মানুষকে সচেতন করে তোলার তাঁর এই উদ্যোগ নতুন নয়। জানালেন গোপীনাথ হুদাতি। উদয় নারায়ণপুর গ্রামের ভিলেজ বাইকার্স ক্লাবের সদস্য তিনি। মাঝে মধ্যেই অজানার খোঁজে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। ২০১৮ সালেও সোনালি চতুর্ভুজ অর্থাৎ কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বই সফরে বেরিয়েছিলেন দাসুদাকে সঙ্গে নিয়ে। সেই সময় মরণোত্তর দেহদান ও চক্ষুদানের বিষয়ে মানুষকে জানিয়েছিলেন তাঁরা। করোনা (COVID-19) কালে পায়ে হেঁটে দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেন দাসুদা। কিন্তু তাঁর একার পক্ষে এই আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। পাশে দাঁড়ায় উদয় নারায়ণপুরের ভিলেজ বাইকার্স। সারা দেশের বাইকাররাও নানা ভাবে সাহায্য করতে থাকেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করতে সাহায্য করেন উদয় নারায়ণপুর থানার ওসি মোহনবাবু। ফেসবুকের মাধ্যমে দাসুদার কথা ছড়িয়ে দেন উৎসব সিনহা ও ঋতু মাঝি।

[আরও পড়ুন: বল ভেবে খেলতে গিয়ে বিপত্তি, বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর জখম মুর্শিদাবাদের কিশোর]

২০২০ সালের ২৪ আগস্ট বর্ধমান থেকে যাত্রা শুরু করেন দাসুদা। সাইকেল নিয়ে তাঁকে সঙ্গ দেন মনোজ মান্না (৪০)। তাঁর কাছেই রয়েছে দাসুদার রান্নার প্রেশার কুকার, ছোট্ট স্টোভ আর রাত কাটানোর তাবু। রাস্তাতেই চলে খাওয়া-দাওয়া, নিশিযাপন। কখনও রাজস্থানে গিয়ে ডাল-বাটি চুরমা খেয়েছেন, কখনও আবার রাস্তার পাশে ঘোলা জলেই স্নান সেরেছেন। এভাবেই দিল্লি, মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, ঝাড়খন্ডে করোনা মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন করে গিয়েছে। রবিবার দুপুরে দাঁতন এলাকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছেন দাসুদা। বুধবার সকালে তাঁর কলকাতায় প্রবেশ করার কথা। সেখান থেকে রওনা দেবেন বর্ধমানের উদ্দেশ্য। যেখান থেকে শুরু করেছিলেন, সেখানেই শেষ করবেন নিজের ভারত সফর। প্রায় একশো দিনের এই সফরের জন্য ভিলেজ বাইকার্সের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা মতো দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। বাকি সাহায্য করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষরা।

[আরও পড়ুন: ‘বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ পর্যায় চলছে’, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক রাজ্যপাল]

Advertisement
Next