দু'দিনের মধ্যেই বিশেষ কোটায় মিলবে গ্যাস সিলিন্ডার। শুধু একটিমাত্র লিঙ্ক ক্লিক করলেই হবে গ্যাস-যন্ত্রণার সমাধান। গ্যাসের সংকট শুরু হতে নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে সাইবার জালিয়াতরা। কলকাতা ও তার আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে আসতে শুরু করেছে জালিয়াতদের ফোন। লালবাজারের সাইবার অপরাধ শাখার পক্ষ থেকে প্রত্যেক ডিভিশনের সাইবার শাখাকে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেউ সাইবার জালিয়াতের ফাঁদে পা দিয়ে টাকা খুইয়েছেন, এমন অভিযোগ এখনও পুলিশের কাছে আসেনি। তবে যাতে সাইবার জালিয়াতদের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ টাকা না খোয়ান, তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতনও করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, গ্যাসের সংকট শুরু হতে বিভিন্নভাবে ফাঁদ পাততে শুরু করেছে সাইবার জালিয়াতরা।
তারা ফোন করে কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে সমীক্ষা করা হচ্ছে। ফোনের অন্যদিকে থাকা গ্যাসের গ্রাহক ২৫ দিনের মধ্যেই গ্যাস বুকিং করেছেন বলে তাদের কাছে খবর। তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাঁকে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়। এতে ওই গ্রাহক কিছুটা ঘাবড়ে গেলে বলা হয়, তাঁকে একটি ফর্ম ভরতে হবে। এর পর তাঁকে হোয়াটস অ্যাপে একটি লিঙ্কও পাঠানো হয়। ওই লিঙ্কে থাকে গ্যাস তথা তেল সরবরাহকারী সংস্থার নাম। এতে যদি কেউ ক্লিক করেন, তখনই তাঁর মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেবে সাইবার জালিয়াত। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেবে সে। পুলিশ সূত্রের খবর, অন্য পদ্ধতিতেও জালিয়াতির চেষ্টা করছে সাইবার জালিয়াতরা। তারা ফোন করে গ্রাহকদের বলছে, বিশেষ কোটায় গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা লটারির মাধ্যমে ২৫ দিনের বদলে দু'দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করছে। লটারিতে ওই গ্রাহকের নাম উঠেছে বলে তাঁকে জানানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে পাঠানো হচ্ছে লিঙ্কও।
পুলিশের মতে, এই ফাঁদে কেউ পা দিয়ে লিঙ্কে ক্লিক করলেই তিনি পড়বেন বিপদের মুখে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও করবে সাইবার জালিয়াতরা। তাই যদি কেউ এই ধরনের ফোনও পান, তিনি যেন সেটি এড়িয়ে চলেন। তিনি যেন কোনওমতেই কোনও লিঙ্ক ক্লিক না করেন, এমনই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
