অখিল ভারতী বিদ্যার্থী পরিষদের দেওয়াল লিখনের পর এবার ‘জয় শ্রীরাম’ পতাকা ঘিরে বিতর্ক বিশ্বভারতীতে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে হস্টেলে ‘জয় শ্রীরাম’ পতাকা দেখা গেল। ফের গেরুয়াকরণের অভিযোগে সরগরম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৈরি এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশ্নের মুখে ঐতিহ্য ও পরিবেশ। হস্টেলে ধর্মীয় পতাকা নিয়ে শুরু বিতর্ক। সরব ছাত্র সংগঠনগুলি। নিরব প্রশাসন-বাড়ছে বিতর্ক। ভোটের মুখে চড়ছে রাজনৈতিক তরজা। রামনবমীতে, বিনয়ভবনের পুরুষ হস্টেলের একটি ব্লকে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা পতাকা টাঙানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পতাকাটি হস্টেলের সামনে প্রায় পতাকা উত্তোলনের ধাঁচেই স্থাপন করা হয়েছে। পতাকায় ‘জয় শ্রীরাম’ লেখার পাশাপাশি রয়েছে রামচন্দ্রের ছবিও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, প্রাক্তনী এবং প্রবীণ আশ্রমিকরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারংবার যোগাযোগ করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পতাকাটি হস্টেলের সামনে প্রায় পতাকা উত্তোলনের ধাঁচেই স্থাপন করা হয়েছে। পতাকায় ‘জয় শ্রীরাম’ লেখার পাশাপাশি রয়েছে রামচন্দ্রের ছবিও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, প্রাক্তনী এবং প্রবীণ আশ্রমিকরা।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অখিল ভারতী বিদ্যার্থী পরিষদের দেওয়াল লিখন ও পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। আসন্ন নির্বাচনের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফের প্রশ্ন তোলে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। সরব হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের দাবি, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যত এবিভিপিকে মদত দিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বৈঠক এবং কার্যকলাপ সংগঠিত করছেন। অথচ বারংবার অভিযোগ ওটা সত্বেও কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কর্তৃপক্ষকে।
এর আগেও একাধিকবার বিশ্বভারতীতে গেরুয়াকরণের অভিযোগ উঠেছে। কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তৃতা করানোর অভিযোগ। আবার কখনও এবিভিপি-র বৈঠকের অনুমতি দেওয়া নিয়েও বিতর্ক। সাম্প্রতিক ঘটনায় ভোটের আবহে সেই বিতর্কই আরও উসকে দিয়েছে। একাংশ অধ্যাপকদের মতে, পরিকল্পিতভাবেই বিশ্বভারতীর স্বাতন্ত্র্য, ঐতিহ্য বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশ্রমিক, অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা। প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্বভারতীর সংস্কৃতির সঙ্গে এর কোনও সাযুজ্য নেই।” শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই ধরনের কার্যকলাপ প্রথাবিরোধী।’’
বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ দে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যকলাপ অনভিপ্রেত। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি করছি।”
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ দে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যকলাপ অনভিপ্রেত। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি করছি।” একই সুরে এসএফআই এর জেলা সম্পাদক সৌভিক দাসবক্সী বলেন, “এটি বিশ্বভারতীর গেরুয়াকরণের একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। একের পর এক এমন ঘটনা ঘটলে আগামী দিনে প্রতিবাদের পথে যেতে বাধ্য হবে পড়ুয়ারা।” সব মিলিয়ে বিশ্বভারতীতে এমন ঘটনা শুধু একটি পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে নয়। বরং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য, আদর্শ ও বর্তমান পরিবেশকে ঘিরে বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
