অরূপ বসাক, মালবাজার: দাঁতালের সামনে পড়লে কী পরিণতি হতে পারে, তা ভালই জানেন ডুয়ার্সের বাসিন্দারা। কিন্তু সেই হাতি যখন পরম মমতায় শুঁড়ে তুলে শিশুকে উঠোনে শুইয়ে দেয়, তখন সত্যিই বিস্ময়ের সীমা থাকে না। শুধু তাই নয়, উপস্থিত বুদ্ধির জোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ওই শিশুটির বাবা-মাও। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাস্তবে এমনই ঘটনা ঘটেছে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায়।
[আরও পড়ুন: গতি নিয়ন্ত্রণ না হওয়াতেই হাতির মৃত্যু,ডুয়ার্সের ঘটনায় রেলকে দায়ী করল বনদপ্তর]
জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার দক্ষিণ খেরকাটা এলাকায় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন ছবিলাল রায়। তাঁর মেয়ে সঙ্গীতার বয়স বছর চারেক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সোমবার ভোরে দক্ষিণ খেরকাটা এলাকায় ঢোকে পড়ে দুটি দাঁতাল হাতি। একটি হাতি দেওয়াল ভেঙে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে ছবিলালের বাড়িতে। তখন ঘরে খেলা করছিল সঙ্গীতা। হাতির সামনে পড়ে যায় সে।
কিন্তু কী আশ্চর্য! ক্ষতি করা তো দূর, হাতিটি পরম মমতায় শুঁড়ে করে শিশুটি বাড়ির বাইরে নিয়ে নিয়ে আসে। তাকে উঠোনে শুইয়ে দিয়ে ফের খাবারের সন্ধানে ছবিলালের বাড়িতে ঢোকে গজরাজ। এদিকে মেয়ে রক্ষা পেলে কী হবে? দ্বিতীয়বার হাতিটি যখন হাতিটি ঢোকে, তখন ঘরেই ছিলেন ছবিলাল ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী। কথায় বলে, বিপদে সময়ে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়৷ বাস্তবে ঠিক তেমনটাই করেন ছবিলাল ও তাঁর স্ত্রী। সুযোগ বুঝে হাতির পেটের তলা দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন দু’জন। তারপর শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা ছাড়েন ওই দম্পতি। এদিকে বাড়িতে মজুত খাবার খেয়ে ঘণ্টা খানেক বাদে হাতিও চলে যায়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় নাগরাকাটার দক্ষিণ খেরকাটা এলাকায়। বেলার দিকে ঘটনাস্থলে যান বন দপ্তরের আধিকারিকরা। হাতি কোনও ক্ষতি না করলেও, শুঁড়ের চাপে আঘাত পেয়েছে বছর চারেকের শিশু। তাঁকে ভরতি করা হয়েছে মাল হাসপাতালে। চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করার কথা ঘোষণা করেছে বনদপ্তর।
[আরও পড়ুন: দূষণে মৃতপ্রায় নদী, জীবন বাঁচাতে পথ অবরোধ পুরুলিয়ার আমরুহাসাবাসীর]
The post ডুয়ার্সে গজরাজের তাণ্ডব, শুঁড়ে তুলেও শিশুকে অক্ষত রাখল হাতি appeared first on Sangbad Pratidin.
