অভিষেক ম্যাচে ব্যর্থ হলেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই আবার নিজের পরিচিত আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেল বৈভব সূর্যবংশীকে। শ্রীলঙ্কায় চলা সিরিজে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে মাত্র ২২ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছে ১৫ বছরের এই ক্রিকেটার। তবে বৈভবের ঝোড়ো ইনিংস সত্ত্বেও ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মের গেরোয় হারতে হল ভারতকে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ১৪ রান করে আউট হলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করেছে বৈভব। পেসারদের বিরুদ্ধে একের পর এক আকর্ষণীয় শট খেলতে দেখা যায় তাকে। মাত্র ২১ বলেই ৯টি চার মেরে হাফসেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বাঁহাতি তারকা। তবে ইনিংস বড় করার আগেই থামতে হয়। আবদুল্লা আহমেদজাইয়ের বলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বল উইকেটরক্ষক ইশাক রহিমির হাতে জমা পড়ে। ২২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস শেষ হলেও তাঁর ব্যাটিং ভারতীয় শিবিরকে স্বস্তি দিয়েছে।
হাফসেঞ্চুরির দিকে এগোলেও নিজের ভুলের খেসারত দিতে হল বৈভবকে। সপ্তম ওভারে আহমেদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বাউন্সারকে ব্যাকফুটে গিয়ে র্যাম্প শট খেলার চেষ্টা করে সে। তবে বলটিতে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ২০০ স্ট্রাইক রেটে রান করে আউট হওয়ার পর বৈভবকে বেশ হতাশ দেখায়। যেভাবে আউট হতে হয়েছে, তা হয়তো বিশ্বাস করতে পারছিল না নিজেই। একেবারে হতবাক হয়ে যায় সে। পরে মাথা ঝাঁকিয়ে হতাশ মুখেই সাজঘরের পথে হেঁটে যায় তরুণ এই ব্যাটার। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, এমনভাবে আউট হওয়ায় একেবারেই সন্তুষ্ট ছিল না।
চলতি বছরে বৈভবের দুর্দান্ত ফর্ম শুরু হয়েছিল আইপিএল থেকেই। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বাধিক রান করে কমলা টুপি জিতেছে সে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট এবং সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটারের পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। চলতি মরশুমে ৭২টি ছক্কা মেরে আইপিএলের ইতিহাসে এক আসরে সর্বাধিক ছক্কার নতুন নজির গড়েছে বৈভব। ভেঙে দিয়েছে ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কার পুরনো রেকর্ড।
আইপিএলে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর থেকেই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দাবি জোরাল হয়েছিল। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসের দলেও জায়গা পেয়েছে বৈভব। আয়ারল্যান্ড সিরিজে যদি তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়, তবে শচীন তেণ্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক করা ক্রিকেটার হবে সে। তার আগে এই ঝোড়ো ইনিংস নিঃসন্দেহে আরও আত্মবিশ্বাস জোগাবে তরুণ প্রতিভাকে।
ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন প্রভসিমরন সিং। ৬৯ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৬৬) এবং অধিনায়ক তিলক বর্মা (৬৬)। শেষ দিকে সূর্যাংশ শেডগে ২৭ বলে ৪০ রানের আগ্রাসী ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেটে ৩৪৯ রান তোলে ভারত। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে আবদুল্লাহ আহমাদজাই ৫টি এবং ফারমানউল্লাহ সফি ৩টি উইকেট নেন। ৩৫০ রানের জবাবে আফগান ওপেনার ও অধিনায়ক ইমরান মীর (৭৫) এবং বাহির শাহ (৫১) রানে অপরাজিত থাকেন। হাসান ইসাখিলও ৩৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। ভারতীয় বোলাররা খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারায় আফগানিস্তান ২৫.৫ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৭ রান তুলে ফেলে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে তখন এগিয়ে থাকায় জয় পায় আফগানিস্তান ‘এ’ দল।
